ইন্দ্রিয় বা পেনিস ক্যান্সার কি? কারণ,  লক্ষণ ও তার প্রতিকার

ইন্দ্রিয় বা পেনিস ক্যান্সার কি? কারণ,  লক্ষণ ও তার প্রতিকার

ইন্দ্রিয় বা পেনিস ক্যান্সার:

পুরুষের ইন্দ্রিয় বা পেনিস ক্যান্সার অপর নাম শিশ্ন । সাধুভাষায় বা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর নাম শিশ্ন বা লিঙ্গ এবং ইংরাজীতে একে বলা হয় পেনিস ( Penis ) । চিকিৎসকীয় দৃষ্টিতে লিঙ্গ অপেক্ষা শিশ্ন শব্দটিই অধিক প্রয়ােগ হয়ে থাকে

    ইন্দ্রিয় বা পেনিস ক্যান্সার এর কারণ:

 

  • এই অঙ্গটি তিনটি নালিকা দ্বারা গঠিত । মূত্রনালী – এর মধ্য দিয়ে বাইরে এসে খােলে । এই তিনটি নালীর মধ্যে মূত্রনালীও একটি । এর তন্তু অন্য নালী বা নালিকা থেকে পৃথক । শিশ্ন এবং ত্বকের মধ্যে এক তরল পদার্থ বেরােতে থাকে । গর্ভাশয়ে ক্যান্সার প্রকরণে এর উল্লেখ করা হয়েছে । এই তরল পদার্থ প্রসবের জন্যই স্ত্রীলােকদের গর্ভাশয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করে । শিশ্নকে ঠিকমতাে পরিষ্কার না করার কারণ এই পদার্থ রতিক্রিয়াকালীন নারীর গর্ভাশয়ের মুখে একত্রিত হয়ে যায় । শুধুমাত্র স্ত্রীলোেকই নয় , উপরন্তু এই পদার্থের জন্য পুরুষদেরও ক্যান্সার রােগের উৎপত্তি হয় । এতে শিশ্নে ক্যান্সার রােগের উৎপত্তি হয় । এতেই শিশ্নের ক্যান্সার জন্ম নেয় ।

 

  •        শিশ্নের ক্যান্সার আরব দেশে খুবই কম এবং না হবার মধ্যেই হয় । তার কারণ । হলাে , সেখানকার অধিবাসীগণ শিশ্নের অর্থাৎ শিশ্নমুণ্ডের ত্বক কেটে ফেলে । এটাই সে দেশের ধর্ম । কাজেই শিশ্নমুণ্ডের আবরকে চামড়া না থাকায় শিশ্নমুণ্ড আলগা থাকে । তার ফলে শিশ্নমুণ্ডে কোনও ময়লা বা দূষিত পদার্থ জমতে পারে না ।

 

  •      এই রােগ অধিকাংশ য়ুরােপ এবং এশিয়াবাসীদের মধ্যেই বেশী পাওয়া যায় । যেমন ক্যান্সার রােগ সম্বন্ধে প্রখ্যাত যে , এই রােগ সাধারণতঃ ৪০ বছরের অধিক বয়সের লােকদের বেশী হয় । শিশ্নের ক্যান্সার সম্বন্ধে সেই একই কথা বলা যায় । রােগটি সাধারণতঃ সেই পুরুষদের মধ্যেই বেশী হয় , যারা নিজের শিশ্নটিকে পরিষ্কার – পরিচ্ছন্ন রাখায় অবহেলা করেন । উপদংশ রােগের কারণেও ক্যান্সার রােগ জন্মায় এবং জন্মাবার সম্ভাবনাও বেশী থাকে ।

 

  • শিশ্নের ক্যান্সারও অন্যস্থানের ক্যান্সারের ন্যায় প্রসার করতে পারে এবং করে । এটিও লসিকা বাহিনীর দ্বারা লসিকা গ্রন্থিতে যেতে পারে । রক্ত পরিভ্রমণের মাধ্যমে এর প্রসার কিন্তু কম মাত্রায় হয় ।

 

  •  প্রারম্ভিক অবস্থায় নিজের ওপর একটি ছােট অর্বুদ মত দেখা যায় । যদি এই সময় এদিকে মনােনিবেশ না করা যায় , তাহলে যত সময় যায় , ততই এর রূপ ও আকার এবং পরিধি বাড়ে ও পরিবর্তন হতে থাকে । সেই সময় এটি বিস্তার লাভও করতে থাকে । কালক্রমে সেই আব বা অবুদ থেকে রক্ত অথবা পুঁজ বেরােতে থাকে ।

  লক্ষণ:

  •   শিশ্ন বা লিঙ্গের ক্যান্সার বায়ােপসী দ্বারাই সহজ হয় । এই ক্যান্সারের লক্ষণ অনেকটা উপদংশ রােগের সঙ্গে মিলে যায় । উপদংশ রােগের বিষয়ে একটা কথা খুব প্রচলিত আছে যে , এই রােগ প্রতিক্রিয়ার ফলে নারী থেকে পুরুষে ও পুরুষ থেকে নারীতে সংক্রামিত হয় । বেশ্যাগমন এজন্য একমাত্র দায়ী বলা হয়েছে । এ কথা অবশ্য সকলেই একবাক্যে মেনে নিয়েছেন । এই উপদংশ অথবা প্যাপিলােমা কালক্রমে ক্যান্সার রূপে পরিণত হতে পারে । এই রােগের প্রাথমিক সময়ে জানা গেলে শল্য চিকিৎসা অর্থাৎ অস্ত্রোপচার দ্বারা চিকিৎসা করা যায় , অথবা রেডিয়াে গােল্ড ( Radio Gold ) দ্বারাও চিকিৎসা । করা – যায় । কিন্তু রােগ অধিক বেড়ে গেলে কখনও কখনও শিশ্নকে কেটে পৃথক করে দেবার দরকার হয়ে পড়ে । কিন্তু এটা কোনও পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয় । কারণ , রােগমুক্তির পর তার সারাজীবনটাই বৃথা হয়ে যায় । এজন্য পুরােপুরি শিশ্নটিকে না কেটে , বিকিরণ চিকিৎসা পদ্ধতির দ্বারা চিকিৎসা করাই একমাত্র পথ । অপারেশন দেহের যে কোনও স্থানেই হতে পারে , কিন্তু এমন কিছু স্থান আছে যেখানে অপারেশন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে । অথচ বিশেষজ্ঞগণ ঔষধাদি প্রয়ােগের ওপর খুব বেশী আস্থা রাখেন না , এই সব ক্ষেত্রে বিকিরণ পদ্ধতিই শ্রেয়ঃ ।
  •      যদি উপযুক্ত সময়ে এর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায় , তাহলে তখন শল্যচিকিৎসার সাহায্যে রােগাক্রান্ত স্থানটি মাত্র বাদ দিয়ে নিরাময় করা সম্ভব হয় এবং বিকিরণ পদ্ধতির সাহায্যে সম্পূর্ণ রােগ ধ্বংস করা সম্ভব হয় । তার ফলে রােগী রােগমুক্ত হয় , অন্যথায় রােগ বৃদ্ধি পেলে , অবস্থা শােচনীয় হয়ে দাড়ায় ।
  •    শুধু তাই নয় , যদি এই রােগ বীজাণু এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ে , তাহলে শিশ্নটিকে সম্পূর্ণ অপারেশন করে কেটে বাদ দিয়ে রােগীকে রােগমুক্ত করা হয় । সেই সঙ্গে অন্যান্য আক্রমিত অঙ্গগুলির জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় ।

  কি কি করণীয়:

  •   মানুষ নিজেরাই সাবধান থাকবেন । শিশ্নের জন্য জমে থাকা স্রাব অথবা অন্যান্য দৃষিত জল যেন শিশ্নে জমে না থাকে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে । শিশ্নকে নিয়মিতভাবে পরিষ্কার রাখা একান্ত কর্তব্য । বাল্যাবস্থা থেকে এই কাজটি শিশু অথবা বালকদের মাতার কর্তব্য হলাে , তার সন্তানদের কি রকম দৃষিত পদার্থ জমা হচ্ছে । সেই দিকে বিশেষ লক্ষ্য রেখে , যাতে দূষিত পদার্থ না জমে সেদিকে তীক্ষ দৃষ্টি রেখে তা পরিষ্কার করে দিতে হবে ।

 

  •  বালক যখন বড় হবে , তখন তাকে শিক্ষা দিতে হবে , যেন সে তার শিশ্নটি রােজ পরিষ্কার করে ও তাতে কোনও দূষিত পদার্থ জমতে না পারে । যদি প্রথম থেকেই এ বিষয়ে নজর দেওয়া হয় , তাহলে যে কোনও অবস্থাতে শিশ্নে ক্যান্সার রােগ আক্রমণ করতে পারে না । শিশু যখন বড় হয় , তখনও যদি তার অভিভাবকদের কাছে শিশ্ন পরিষ্কার রাখার উপদেশ না পায় , তাহলে এ বিষয়ে তাদের কোনও জ্ঞান হয় না , ফলে শিশ্নে দূষিত পদার্থ জমতে জমতে একদিন কঠিন ক্যান্সার রােগে আক্রান্ত হয় । অনেক মাতা – পিতা সন্তানকে এই শিক্ষা দিতে সঙ্কোচ বােধ করেন , কিন্তু তার ফলে ভবিষ্যতে একদিন তাদের জীবনটাই বরবাদ হয়ে যায় । এই কথাটা অভিভাবকদের বিশেষভাবে মনে রাখা কর্তব্য।

 

*****তা ছাড়া সামান্য অসুবিধা হলে কেউ চিকিৎসকের কাছে যান না , যখন বেশী হয় , তখনই চিকিৎসকের কাছে যায় , কিন্তু তখন আর “ কোনও উপায় থাকে না । এজন্য উচিত হলাে — সামান্য কিছু উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার ও উপযুক্ত চিকিৎসা করানোর বিশেষ দরকার ।

 

****** যদি বাল্যাবস্থাতেই শিমুণ্ডের ওপরের ত্বক খুলে শিশ্নমুণ্ড অনাবৃত হয় , তাহলে কোনও কথা নেই , কিন্তু তা না হয়ে যদি শিশ্নমুণ্ড ত্বকের দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে তাহলে অপারেশন করে লিঙ্গমুণ্ড অনাবৃত করে দেওয়া দরকার । একমাত্র মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেই এই ভাবে লিঙ্গমুণ্ডের ত্বক কেটে ফেলার বিধি আছে । তার ফলে লিঙ্গমুণ্ড অনাবৃত হয় , সেজন্য এই সম্প্রদায়ের মধ্যে শিশ্ন ক্যান্সার একেবারেই হয় না বললেই চেলে । সেজন্য যাদের শিশ্নমুণ্ডের ত্বক অপসারিত হয় , একমাত্র তারা ব্যতীত যাদের শিশ্নমুণ্ড চামড়ার দ্বারা সর্বদা আবৃত থাকে , তাদের উচিত হলাে অপারেশন দ্বারা লিঙ্গমুণ্ড অনাবৃত করে দেওয়া ।

**** তা ছাড়া যেখানে স্ত্রীগমন নৈতিক দৃষ্টিতে উচিত নয় , সেখানে স্বাস্থ্যের দিক  থেকেও হানিকর বুঝতে হবে । এর কারণ হলাে — এর ফলে সেই নারী অর্থাৎ নারীর সঙ্গে সহবাসকারী কোনও অন্য পুরুষের রােগ পর – স্ত্রীগামী পুরুষের দেহে সংক্রামিত        হয় । সেটা উপদংশ হতে পারে , গণােরিয়া হতে পারে আবার ক্যান্সারও হতে পারে কিংবা এই ধরনের অন্য কোনও যৌন রােগও হতে পারে ।

***গুপ্ত রােগ , যাকে আজকালকার ভাষায় জেনারেল ডিজিজ বলা হয় , সেটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে । এই রােগ মারক না হলেও স্ত্রী বা পুরুষ যাকেই এই রােগ । আক্রমণ করুক না কেন , তার অবস্থা অত্যন্ত শােচনীয় দাড়ায় । সেজন্য সাবধানতা সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা । সভাবে জীবন যাপন করতে হয় । বেশ্যাগমন বা উচ্ছঙ্খলতা ত্যাগ করতে হবে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language