রূপচর্চার ক্ষেত্রে সুন্দর ত্বক যত্নের জন্য কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি

রূপচর্চার ক্ষেত্রে সুন্দর ত্বক যত্নের জন্য কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি

রূপচর্চার ক্ষেত্রে সুন্দর ত্বক এর জন্য:

রূপচর্চার ক্ষেত্রে সুন্দর ত্বক পাওয়ার জন্য আপনাকে অনেক গুলো সমস্যার সন্মুখীন হতে হয় তো দেখেনিন ঘরোয়া উপায়ে কি ভাবে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন ।

  •  আধকাপ চিনিতে খানিকটা সূর্যমুখী বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে ঐ মিশ্রণ সারা গায়ে মেখে কিছুক্ষণ শুকোতে হবে । শুকিয়ে গেলে ঘষে তুলে ফেলে হাল্কা গরম জলে স্নান করলে ত্বক নরম ও মােলায়েম হবে ।
  • হাল্কা গরম জলে এক চামচ হরিতকি গুঁড়াে অথবা ত্রিফলা গুঁড়ো দিয়ে পরপর । সাতদিন খাওয়ান প্রতিমাসে একবার ।
  • হাল্কা গরম জলে আধ চামচ নিমপাতা বাটাশুলে খান এতে পেট ও ত্বক পরিষ্কার থাকবে ।
  • হাতের কনুইয়ে অনেকের কালােদাগ থাকে সেই জায়গায় পাতিলেবুর রস লাগিয়ে পাঁচমিনিট রেখে তারপর বেসন ও কাচা হলুদ বাটা ও দুধের সর মিশিয়ে লাগালে নুয়ের দাগ চলে যাবে ।
  • অনেকেরই দেখা যায় ত্বক শুষ্ক অথবা ত্বক ফেটে যায়— এক্ষেত্রে স্নান করার । আগে বেসন এবং টক দই একসাথে মিশিয়ে সারা গায়ে ভাল করে মেখে কিছুক্ষণ বাদে । স্নান করলে কিছুদিনের মধ্যেই ত্বকের জৌলুস ফিরে পাবেন ।
  • শরীরের চামড়া টান টান রাখতে ও লাবণ্য বৃদ্ধি করতে দুই চামচ চালতা পাতার রস আধ চামচ নিশিন্দা ও চারটি গােল মরিচ গুঁড়াে জল দিয়ে কিছু দিন খান ।
  • এক কোয়া রসুন বেটে , এক চামচ কাঁচা আমলকির রসের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন একবার খেলে ত্বকের লাবণ্য সারাজীবন বজায় থাকে ।
ব্রণ :

ব্রণর সমস্যায় উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা প্রায়ই ভােগে । এর হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রতিদিন ভাল করে সাবান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা এবং কোষ্ঠ সাফ রাখা বিশেষ প্রয়ােজন । এছাড়া হট ভেপার বা গরম জলের ভাপ নেওয়াটাও জরুরী ।

ব্রণ ও ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি পেতে :
  • কমলালেবুর খােসা বেটে সারা মুখে মাখা ও আধঘণ্টা বাদে আঙুলের ডগা দিয়ে রগড়ে ধুয়ে ফেলা ।
  • এক চামচ ধনে পাতার রসের সাথে এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে সারা মুখে মাখলে ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।
  • শসার ও লেবুর রস দিনে তিন – চারবার ব্রণের উপর বা দাগের উপর লাগানাে ।
  • মুলতানি মাটিকে বরফ জলে ভিজিয়ে বা ঠাণ্ডা জলে এক ঘণ্টা রেখে ভালভাবে ফেটিয়ে মুখে লাগালে উপকার হবে ।
  • আধ চামচ করে আমলকী , হরিতকী ও বেড়ে এক সাথে মিশিয়ে উষ্ণ জল দিয়ে খান ।
  • নিশিন্দা ও বেলপাতার রসের সাথে কপূর দিয়ে ব্রণতে লাগানাে উচিত ।
  • ব্রণ শুকিয়ে গর্তের মতাে হলে অশথ ছাল গুড়াে পেস্ট করে ক্ষতে লাগান দিনে দুবার ।
  • মুখে বড় বড় ব্রণ হলে এক চামচ পরিমাণ ঘি দিয়ে ভেজে খাওয়া । কাঁচা দুধ দিয়ে শিমুল কাটা বেটে দিনে দুবার করে ব্রণের উপর লাগালে বিশেষ উপকার পাওয়া যায় ।
কালাে ছােপ :

লিভারের গণ্ডগােল থেকেই এটা বেশি হয় । তবে প্রখর রােদ বা পিরিয়ডের গােলমালও এর অন্যতম কারণ হতে পারে ।

  • টক বা অ্যাসিড জাতীয় খাবার বেশি না খাওয়া ও সরাসরি চড়া রৌদ্র না লাগানাে উচিত ।
  • মুখের কালাে ছােপ থাকলে সােমরাজ , লমীশাকের রস , গাম্ভীর ছাল আধ চামচ করে নিয়ে জলে ফুটিয়ে মুখে মাখা ও শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার জলে মুখ ধােয়া ।
  • মুখে ছােপ ছােপ দাগ হলে অশােক আধচামচ , মটর ডালের বেসনের সাথে । মুখে লাগিয়ে ধােওয়া ।
  • মুখের কালাে দাগ হলে আকন্দের আঠার সাথে কাঁচা হলুদ বাটা পেষ্টকরে মুখে লাগানাে ।
মেচেতা :
  •  মেচেতা হলে এক টুকরাে দারুচিনি , একটি ছােট এলাচ ও আমচ গুলঞ্চ জল দিয়ে খাওয়ান ।
  • মুখে মেচেতা হলে সুষনী শাক , এক চামচ চন্দন , দুই চামচ দেবদারুর ছাল জলে ফুটিয়ে হেঁকে সেই জল গরম অবস্থায় মুখে লাগানাে ।
  • দুই চামচ মধু এবং এক চামচ অর্জুন ছাল মিশিয়ে লাগালে বিশেষ উপকার হবে ।
মুখের ত্বক উজ্জ্বল করতে :
  • একাজে গােলাপের পাপড়ির জুড়ি নেই । প্রতিদিন গােলাপের পাপড়ি দুধের সর দিয়ে বেটে নিয়মিত মুখে মাখতে হবে।
  •   প্রতিদিন সকালে মুখে দই লাগিয়ে কিছুক্ষণ মালিশ করে ২০-২৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে মুখের উজ্জ্বলতা বাড়বে ।
  • আধ চামচ করে অর্জুন , বকুল , বচ গরম জল দিয়ে মেখে মধু দিয়ে খাওয়া উচিত ।
  • বাসক পাতা , অশােক ও শঙ্খ গুড়াে আধ চামচ করে মুখে মাখা উচিত ।
  • পদ্ম পাপড়ি দশ – পনেরােটি ও দুটি কদমপাতা বেটে লাগানাে উচিত ।
বলিরেখা :

এর প্রধান কারণ দুশ্চিন্তা । এছাড়া শরীরে জলীয় পদার্থের অভাব থেকেও মুখে । বলিরেখা পড়তে পারে । এর থেকে মুক্তি পেতে –

  • কমলালেবুর রস সারা মুখে মাখলে বলিরেখা দূর করা যায় ।
  • এক কাপ ফুটানাে দুধে আধখানা লেবুর রস ও এক চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে একঘণ্টা রেখে রাতে শােয়ার আগে মুখে ও হাতে পায়ে মেখে নিলে বিশেষ উপকার হয় ।
  • তরমুজের রস মুখে মাখলে বলিরেখাতে বিশেষ উপকার আসে ।
চোখের কোলে কালি:

অত্যধিক মানসিক পরিশ্রম ও অনিয়মের মধ্যে যারা দিন কাটায় ; অত্যন্ত কম ঘুম হয় কিংবা রক্তাল্পতা যাদের বেশি তারাই এই রােগে আক্রান্ত হয়ে থাকে ।

  • কুলেখাড়া সেদ্ধ রস প্রতিদিন এককাপ করে খেলে উপকার হয় ।
  • দইয়ের সাথে মুলতানি মাটি ও কয়েক ফোটা লেবুর রস এক সাথে মিশিয়ে মুখে লাগালে উপকার হয় ।
  • চন্দন বাটা ও তুলসি বাটা গােলাপ জল দিয়ে লাগালে উপকার হয় ।
  • আলু বা শসা কুরে চোখের চারিপাশে লাগালে চোখের কালি দূর হয় ।
  • চোখের চারিদিকে কালি পড়লে আধ চামচ করে সাদা চন্দন , দেবদারু , অর্জুন , গরম জলে ফুটিয়ে উষ্ণ অবস্থায় তুলে দিয়ে তিন – চার বার লাগালে ফল পাবেন ।
  • পাঁচ গ্রাম কাঁচা হলুদ ও দশ গ্রাম দুর্বা ঘাস বেটে এক কাপ দুধ দিয়ে এক বার খাওয়া ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language