নাড়ী বা পালাস কিভাবে পরীক্ষা করবেন বা করা হয়? জেনেনিন আয়ুর্বেদিক মতে

নাড়ী বা পালাস কিভাবে পরীক্ষা করবেন বা করা হয়

নাড়ী বা পালাস :

নাড়ী বা পালাস পরীক্ষা করার জন্য হাতের  মণিবন্ধের নিচে বুড়ো  আঙুলের একটি রক্ত -সঞ্চালক  শিরা আছে, ঐ শিরাটির স্পন্দন অনুভবের দ্বারা অনায়সে রৌগ নির্ণয় করা সম্ভব।

 *পূরুষের দক্ষিণ/ডান  হাতের নাড়ী এবং স্ত্রীলোকের বাম হাতের নাড়ী পরিক্ষি করতে হয়।

নিদ্রাকালে বা নিদ্রাভঙ্গের পরে, তৈলমর্দনের পরে, ভোজনকালে বা ভোজনের পরে, ক্ষধার্ত বা অত‍্যন্ত তৃষ্ণার্ত  অবস্থায়,  অগ্নি অথবি রৌদ্র সেবনের পরে, মৈথুন, ভ্রমণ, ব‍্যায়ম বা মাদদ্রব্র সেবনের  পরে  নাড়ী বা পালাস পরিক্ষা করা অনুচিত। কারণ উপরোক্ত সময়ে নাড়ী পরিক্ষা করলে সঠিক  বোধলাভ হয় না।

নাড়ী স্পন্দন এর তারতম্য :

(ক) সুস্থ ব্যক্তির নাড়ী :

কেঁচোর মতো ধীরে ধীরে স্পন্দিত হয়, স্পন্দনের কোনোরকম জড়তা অনুভূত হয় না।সাধারণরা প্রাতঃকালে নারীরগতি স্নিগ্ধ, মধ্যায়নে উষ্ণ এবং অপরাহ্নে দ্রুতগতি সম্পন্ন হয়ে থাকে।

(খ)রোগগ্রস্থ ব্যক্তির নাড়ীরগতি:

(১) বায়ু প্রভাবিত রোগীর নাড়ীর বক্রগতি সম্পন্ন, স্পর্শদর্শ বাঁকা গতিতে সঞ্চারমান।

(২) পিত্ত কুপিত রোগীর নাড়ী লিম্ফ্যান – কাক বা ভেক সদৃশ লাফিয়ে লাফিয়ে চলে।

(৩) কফ প্রভাবিত রোগীর নাড়ী শির গতি সম্পন্ন, হ্যাস বা কপোতের মতো মৃদু মন্দ সঞ্চারমান।

(৪) রোগীর মধ্যে বায়ু ও পিত্তের প্রকোপ বাড়লে নাড়ীর গতি স্যাপ বা ব্যাঙের মতো বাঁকা ও চঞ্চল (লম্ফামান) হয়।

(৫) পিত্ত  ও শ্লেষ্মার আধিক্য ঘটলে নাড়ীর গতি কখনো স্যাপ বা কখনো হাঁসের মতো নাড়ীর মন্দগতি সম্পন্ন হয়।

(৬) বায়ু ও শ্লেষ্মার আধিক্য ঘটলে নাড়ীর গতি কখনো কখনাে সাপের মতাে বক্রগতি সম্পন্ন বা কখনাে রাজহাঁসের মতাে মৃদুমন্দ গতি সম্পন্ন হয়ে থাকে ।

( ৭ ) সন্নিপাতজনিত কারণে নাড়ী ত্রিদোষযুক্ত হলে – নাড়ী চঞ্চল ও উষ্ণ হয় । কখনাে ভীষণ প্রকম্পিত , কখনাে ভীতিযুক্ত বা কখনাে চলমান অবস্থায় স্তব্ধ হয়ে যায় ।

নাড়ীর মাধ্যমে মৃত্যু সংকেত জানা :

বায়ুতে দূষিত , পিত্তে দগ্ধ এবং কফে কুপিত নাড়ী মৃত্যু সংকেত দেয় । “ যদি প্রথমে নাড়ী বা পালাস স্পন্দন বায়ুলক্ষণযুক্ত সাপের মতাে গতিযুক্ত হয় এবং তারপরেই পিত্ত লক্ষণ জনিত ভেকগতি সদৃশ লক্ষ্যমান হয় এবং তারও পরে কফ জনিত হংস প্রভৃতির গতিজনিত মৃদুমন্দ হয় – তবে রােগ নিরাময় সুসাধ্য । কিন্তু ওলট – পালট বা বিশৃঙ্খলা অনুভূত হলে রােগ নিরাময় একরকম অসম্ভব ।

বিভিন্ন রােগে নাড়ীর গতি – প্রকৃতি :

(১) জুর অবস্থায় : নাড়ী উষ্ণ ও দ্রুত গতি সম্পন্ন হয় ।

(২) উদরাময় বা পেটের অসুখে : নাড়ী শীতল ও দুর্বল অনুভূত হয় ।

(৩) পিত্ত শ্লেষ্ম জ্বরে :  নাড়ী কৃশ এবং সময়ে সময়ে শীতল ও মৃদুমন্দ গতি সম্পন্ন হয় ।

(৪) বাত শ্লেষ্ম জ্বরে : নাড়ী মৃদুমন্দ গতিতে ধাবমান ও ঈষদুষ্ণ হয় ।

(৫) বিষভক্ষণে বা সর্পদংশনে :  নাড়ীর গতি অত্যন্ত অস্থিরভাব যুক্ত হয় ।

(৬) বায়ু ও পিত্ত জ্বরে :  নাড়ী চঞ্চল , স্থূল , কঠিন এবং দোদুল্যমান অবস্থায় সঞ্চরমান হয়ে থাকে ।

(৭) ঐকাহিক জ্বরে : নাড়ী থেকে থেকে প্রবাহিত হয় অর্থাৎ কিছুক্ষণ চলার পর কিছুক্ষণ স্তব্ধ আবার সঞ্চরমান আবার স্তব্ধ এইভাবে চলে ।

(৮) স্ত্রী সম্ভোগের পরে : নাড়ী তীব্র ও সরলগতি সম্পন্ন হয় ।

(9) মলরােধ ঘটলে :  নাড়ী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ।

(১০) অস্ত্রাঘাতে ও পতনে :  নাড়ীর তি হংস ও গজ সদৃশ হয় ।

(১১) প্রমেহ ও উপদংশে: নাড়ীর গতি মাঝে মাঝে বাধাপ্রাপ্ত হয় ।

(১২) পুরােনাে রােগে : নাড়ী কখনাে স্কুল বা কখনাে দ্রুতগতি যুক্ত হয়ে থাকে ।

(১৩) অজীর্ণরােগ : নাড়ী সচরাচর স্থূল হয়ে থাকে ।

(১৪) কলেরায় : নাড়ী দুর্বল ও স্তব্ধ মনে হয় ।

(১৫) ক্রিমিরােগ : নাড়ী স্কুল , কখনাে দ্রুত বা কখনাে মৃদুগতি যুক্ত হয় ।

(১৬) রক্তস্রাব জনিত কারণে : নাড়ী ক্ষীণ , চঞ্চল , ধীর ও মৃদুগতিযুক্ত হয়ে থাকে ।

(১৭) যক্ষ্মারােগে :  নাড়ী মৃদু ও দুর্বল হয়ে থাকে ।

(১৮) কাশ রােগে :  নাড়ী দ্রুত অনিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়ে থাকে ।

(১৯) শ্বাসরােগের : নাড়ী কখনাে দ্রুত বা কখনাে মৃদুমন্দগতি সম্পন্ন হয়ে থাকে ।

(20) বিষম জ্বরে : নাভী স্থির ভাবে সঞ্চরমান ।

(২১) সর্দিরােগে : নাড়ী ধীর , মৃদুমন্দ বা কখনাে চঞ্চল হয় ।।

(২২) ত্রিবিধ জ্বরে :  ( বায়ু প্রভাবিত , পিত্তকুপিত , কফ প্রভাবিত ) নাড়ী ভ্রমরগতিযুক্ত ।

(২৩) কামজ্বরে  : নাড়ীর গতি চঞ্চল হয় ।

(২৪) ক্রোধজুরে :  নাড়ী দ্রুতগতি সম্পন্ন হয় ।

(২৫) বাত ও শূল রােগে : নাড়ী অতীব বক্ৰগতি সম্পন্ন হয় ।

(২৬) মূত্রকৃচ্ছতা রােগে : নাড়ির গতি স্থূল হয় ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language