পেটের যন্ত্রণা (Colic)কেন হয়? হলে কি করবেন!দেখে নিন এলোপ্যাথিক উপায়ে কি করবেন

পেটের যন্ত্রণা:

পেটের যন্ত্রণা হয় ! অনেক কারণে হতে পারে। তবে এক এক রকম যন্ত্রনার এক এক রকম লক্ষণ হয়ে থাকে এবং তার প্রতিকার ও এক এক রকম হয়।

 কারণ :

গুরুপাক ও উত্তেজক দ্রব্য ভােজন , সীসা বা তামার পাত্রে কোনরূপ খাবার জিন্যি ব্যবহার , ঋতু পরিবর্তন , ঠাণ্ডা অর্থাৎ বরফ জাতীয় খাদ্য বেশি খাওয়া , কোষ্ঠকাঠিন্য রােগে নিয়মিত ভােগা , অজীর্ণ , বেশি অল্প এই সব নানা কারণে পেটে বেদন হতে পারে ।

বেদনা প্রথমতঃ

মুদ্রান্ত , বৃহদন্ত্র প্রভৃতিতে হয় । তেমনি লিভারের দোষে পিত্তথলিতে পাথর জমলে বেদনা হয় । আবার কিভনির পাথরও এই ধরনের বেদনার কারণ । উপাঙ্গ প্রদাহকেও শূলবেদনা বা Colic Pain হিসাবে ধরা চলে ।

রােগ লক্ষণ :

  • উপর পেটের মাঝবরাবর ব্যথা , যন্ত্রণা , কামড়ানাে বা মােচড়ানাে ভাব থাকে , চোঁয়া ঢেকুর থাকতে পারে , বমি বা বমনেচ্ছা থাকতে পারে , পেটফাঁপা , বারংবার মলত্যাগের ইচ্ছা প্রভৃতি থাকতে পারে । পাকস্থলীতে ক্ষত থাকতে পারে।
  • অনেক সময় প্রচণ্ড বমি , উদরাময় , অম্নবমি প্রভৃতির সাথে পেটের যন্ত্রণা হতের ।
  • নাভির চারদিকে বিশেষত বাম দিকে প্রচণ্ড কামড়ানি থাকলে বা টিপলে প্রচণ্ড ব্যথা লাগলে আমাশয় রােগ হেতুশূলব্যথা বলে ধরা হয় ।
  • ভানদিকেরউপর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা বা চিড়িকমারা যন্ত্রণা হলে তা লিভারের গােলযােগবাপিত্তপাথরি হিসাবে ধরা হয় ।
  • ভানদিরে তলপেটে ব্যথা হলে উপাঙ্গ প্রদাহ বা অ্যাপেনডিসাইটিস বলে ।
  • তলপেটের মাঝখান বরাবর ব্যথা বা যন্ত্রণা , প্রস্রাবের সময় তলপেটে প্রচণ্ড যা কিডনির গণ্ডগােল বলে ধরা হয় ।
  • কৃমিজনিত কারণে অনেক সময় পেটে ব্যথা – যন্ত্রণা হয় ।

রােগ নির্ণয়ঃ

  • রােগ লক্ষণ দেখে ।
  • আলট্রাসনােগ্রাফি করলে নিশ্চিতরূপে রােগ ধরা পড়ে ।
  • Bariunt – meal X – ray করলেও রােগ সম্বন্ধে জানা যায় ।

চিকিৎসা :

১। যে – কোন কারণেই হোক তীব্র যন্ত্রণা হলে একটি যন্ত্রণানাশক ঔষধ নিতে হবে । যেমন— Tab Cyclopam ( ট্যাব সাইক্লোপ্যাম ) ১ টি করে দিনে ৩ বার । অথবা Tab Colimex . ( ট্যাব কলিমেক্স ) ১ টি করে দিনে ৩ বার । অথবা Tab Meftal – Spas ( ট্যাব মেটাল স্প্যাস ) ১ টি করে দিনে ৩ বার । অথবা Cap Spasmoproxyvon ( ক্যাপ স্প্যাসমােপ্রভিন ) ১ টি করে প্রয়ােজন অনুযায়ী ।

শিশুদের জন্য—

Colimex Drops ( কলিমেক্স ড্রপস ) অথবা Cyclopam Drops ( সাইক্লোপ্যাম ড্রপস ) অথবা Spasmindon Drops ( স্প্যাসমিনভন ড্রপস ) ৬ মাসের নিচে ৫-১০ ফোঁটা , ৬ মাস থেকে ২ বত্সর ১০-২০ ফেঁটা ; ২ বৎসরের উর্থে ১/২ চামচ সাসপেনশন , ৪ বৎসরের উর্ধ্বে ১/২ টি ট্যাবলেট সকল ক্ষেত্রে দিনে ৩ বার ।

*ঔষধ খেয়ে বমি হয়ে গেলে দিতে হবে –  Inj . Reglan ( ইঞ্জেকশন রেগল্যান ) বা Inj . Maxeron ( ইঞ্জেকশন ম্যাক্সেরন ) ২ মিলি প্রথমে , প্রয়ােজনে ৪-৬ ঘণ্টা পর পুনরায় ২ মিলি । শিশুদের মাত্রা কম হবে এবং যন্ত্রণানাশক ইঞ্জেকশন দেওয়া যাবে । যেমন –

**Inj . Cyclopam ( ইঞ্জেকশন সাইক্লোপ্যাম ) বা Inj Decolic ( ইঞ্জেকশন ভেকোলিক ) ২ মিলি প্রয়ােজন অনুযায়ী দিতে হয়। রােগলক্ষণ কমে গেলে উপরের ট্যাবলেট ঔষধের সাথে দিতে হবে । Tab Perinorm ( ট্যাব পেরিনর্ম ) অথবা tab Maxeron ( ট্যাব ম্যাক্সেরন ) ১ টি করে দিনে ৩ বার খাবার ১৫ মিনিট পূর্বে ।

২। গ্যাস , অল্পসহ ক্ষুদ্রান্ত্র বা বৃহদন্ত্রের রােগের কারণে হলে তার চিকিৎসা হবে নিম্নরূপ

*অম্নের ঔষধ যে –

কোন ১ টি দিতে হবে— Polycrol forte – Gel ( পলিক্রল ফোর্ট – জেল ) ২ চামচ করে দিনে ২-৩ বার জলসহ । অথবা Silox – ft -Gel ( সাইল – ফোর্ট – জেল ) ২ চামচ করে দিনে ২-৩ বার জলসহ । অথবা Carmicide Liquid ( কারমিসাইভ লিকুইড ) ২ চামচ করে দিনে ২-৩ বার জলসহ । অথবা Carmiton Liquid ( কারমিটোন লিকুইড ) ২ চামচ করে দিনে ২-৩ বার জলসহ ।

**আমাশয়ের জন্য হলে নিতেহবে—

Tab Unimezole – 400 ( ট্যাব ইউনিমিজোল ৪০০ ) ১ টি করে দিনে ৩ বার ৫ দিন । অথবা Tab Entamizole ( ট্যাব এন্টামিজোল ) ২ টি করে দিনে ৩ বার ৫-১০ দিন । শিশুদের সিরাপ আকারে পাওয়া যায় ।

***কৃমিজনিত কারণে হলে দিতে হবে—

TabCombantrin ( ট্যাব কমব্যানট্রিন ) ২-৩ টি ট্যাবলেট একত্রে ১ বার । অথবা , TabZentel – 400 ( ট্যাব জেনটেল -৪০০ ) ১ টি ট্যাবলেট ১ বার মাত্র । অথবা Tab Alben – 400 ( ট্যাবলেট অ্যালবেন -৪০০ ) ১ টি ট্যাবলেট ১ দিন মাত্র ।

৩ | পিত্তপাথরি বা লিভারের গােলযােগ জনিত কারণে হলে তার চিকিৎসা পরে আলােচনা করা হলাে । উপাঙ্গ প্রদাহের চিকিৎসা নির্দিষ্ট অধ্যায়ে দেখুন । কিডনির রােগ মূত্রযন্ত্রের রােগ অধ্যায়ে দেখুন ।

আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা :

১। প্রচণ্ড যন্ত্রণা হলে গরম জল একটু একটু করে চুমুক দিয়ে খেলে যন্ত্রণা কমে । এতে যদি বমি হয় তাতেও উপকার হয় কারণ অতিরিক্ত আয় বমিতে নির্গত হয় । ২। গরম জলে স্নান করলে কিছুটা যন্ত্রণার উপশম ঘটে । ৩। প্রথমে তরল এবং ঈষদুষ্ণ খাবার দেওয়াই ভাল । যেমন , সাগু , বার্লি , হরলিকস ইত্যাদি । ৪।যন্ত্রণা বন্ধ হলে পুরানাে চালের ভাত , শিঙ্গি , মাগুর বা ছােটরুইবাবাটামাছের টাটকা ঝােল , কাঁচকলা সিদ্ধ প্রভৃতি দিতে হবে । ৫। মসলাদার খাবার খাওয়া , রাত্রি জাগরণ , নেশা সেবন নিষেধ ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language