মর্ডান আয়ুর্বেদিক মতে ঋতুভেদে আপনার খাদ‍্যাভ‍্যাস কি হবে

মর্ডান আয়ুর্বেদিক মতে ঋতুভেদে আপনার খাদ‍্যাভ‍্যাস কি হবে

মর্ডান আয়ুর্বেদিক মতে ঋতুভেদে করতে চান – প্রাচীনকাল থেকেই প্রাচ‍্য ও প্রতীচ‍্য চিকিৎসকগণ ও ঋষিগন বলে আসছেন স্বাস্থ‍্যইসম্পদ। প্রকতপক্ষে পার্থিব যাবতীয় ধনসম্পদ অর্জনের মৌলিক সহায়কারী হিসাবে মানুষের স্বস্ব‍্যেরই স্থান প্রধান।

স্বস্থ‍্য বলতে শরীরটী মোটা শক্তিশালী ও কার্যক্ষম হলে চলবে না। প্রথমে শরীরের স্বাস্থ্য সবর্বশেষে আত্মার স্বাস্থ্য ঠিক থাকলেই মানুষ পরিপূর্ণ সুখের অধিকারী হবে। স্হুল শরীরকে সুস্থ রাখা স্থুল বুদ্ধি সাধারণ লোকের পক্ষে সম্ভব নয়, তার সঙ্গে চতুর মন বিশিষ্ট লোক হলে শরীর ও মনের স্বাস্থ‍্য এক সঙ্গে রক্ষা করতে পারা যায় কিন্তু আত্মি অসুস্থ থাকবে।

প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানব দেহের অঙ্গাঙ্গী সম্বন্ধে। মর্ডান ঋতুভেদ প্রাকৃতিক  পরিবর্তন অনুযায়ী মানুষ কে সুস্বাস্থ্য রাখার জন্য আহার – বিহারে কোন বিশেষ কতগুলো নিয়ম মেনে চলতে হয়। যথা —

বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাস :

গ্রীষ্মকালে সুস্থ অবস্থায় নানাবিধ সুমিষ্ট ফল স্বাদুভাত ও শীতল ও বিশুদ্ধ জল পান করা উচিত। অঙ্গের চন্দনাদি সুগন্ধি লেপন এবং যে জায়গায় বায়ু চলাচল অব্যাহত-সেই স্থানে শয়ন করা উচিত।  গ্রীষ্মকালে অল্প কিছুক্ষণ দিবানিদ্রা হিতকর।

আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস :

বর্ষাকালে সকলেরই পরিপাক শক্তি কিছুটা কমে। অতএব বর্ষাকালে পুরনো চালের ভাত , ছাগলের দুধ, লঘুপাক দ্রব্য অতিরিক্ত রসাদি ভোজন বিধেয়।  এই সময় কোষ্ঠ পরিষ্কার ওষুধ সেবনে কোষ্ঠ-পরিষ্কার রাখা উচিত।  এই সময়ে দিবানিদ্রা অত্যন্ত শ্রমজনক কাজ অতিরিক্ত রোদ লাগানো অতিরিক্ত মৈথুন ব্যায়াম নিষিদ্ধ।

ভাদ্র ও আশ্বিন মাস :

শরৎকালের পিত্ত সচরাচর প্রকুপিত হয়। অতএব বিরেচন ওষুধদি,পিত্তিনাশাক তিক্ত ও কসায় দ্রব্যাদি এবং লঘু ভজন দরকার। এই সময়ে দই,টক,তীক্ষ দ্রব্য, দিবানিদ্রা, রৌদ্রে ভ্রমণ, পূর্ব বায়ু সেবন থেকে বিরত থাকুন।

কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ মাস :

হেমন্ত কাল শীতকালে পরিপাক শক্তি বৃদ্ধি পায়, এ সময় প্রচুর পরিমাণে মাং সাদী, ঘৃত, দুধ ও অন্য সেবন করা উচিত। এই সময় উষ্ণ গৃহেবাস ও শীতবস্ত্র ব্যবহার করা উচিত। এ সময় কটু রসযুক্ত দ্রব্য, দিবানিদ্রা, স্বল্প ভজন ইত্যাদি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর।

ফাল্গুন ও চৈত্র মাস :

বসন্তকালের পরিপাক শক্তি অনেকাংশে হ্রাস পায়,পাচকাদি অগ্নি দূষিত হয়। এই সময়ে শ্লেষ্মার প্রকোপ বৃদ্ধি ও নানাবিধ ব‍্যাধি সূচিত হয়।

বিরেচনাদি ওষুধ প্রয়োগে সর্বাগ্রে শ্লেষ্মার নিঃসরণ করা উচিথ। রুক্ষবীর্য, লঘুপাক, কটু রসযুক্ত দ্রব‍্যাদি, লঘুপাক মাংসাদি ও কফহারি ওষুধ প্রভৃতি গ্রহন করতে হবে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language