ক্যান্সার রোগের কারণ, লক্ষণ ও হোমিপাথিক চিকিৎসা

ক্যান্সার রোগের কারণ, লক্ষণ ও হোমিপাথিক চিকিৎসা

হােমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :

যেমন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে নিশ্চিতরূপে বলা যায় না যে , অমুক স্থানে অমুক ব্যক্তির ক্যান্সার কোন্ চিকিৎসা পদ্ধতিতে করার জন্য সেই ব্যক্তি ক্যান্সার রােগ থেকে মুক্ত হয়েছে , অথবা কোন্ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করলে সে রােগ মুক্ত হবে । হােমিওপ্যাথিও সেই রকম বলা যায় । কিছু কিছু হােমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের ধারণা হলাে যে , যদিও বিজ্ঞানে অনেক প্রকার কীটাণুনাশক ঔষধ , যাকে আমরা এ্যান্টিবায়ােটিক নামেই জেনে আমরা এই সব এ্যান্টিবায়ােটিক ঔষধ আবিষ্কার করেছি । এর এই সব ঔষধের মাধ্যমে নানা প্রকার রােগের জীবাণুকে ধ্বংস করে , রােগের নিশ্চিত চিকিৎসা করা সহজ করে নিয়েছি । তথাপি ক্যান্সার রােগের বিষয়ে আজও অংশমাত্রও কিছু পাওয়া যায় নি ।

রােগের ঔষধ :

হােমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণের মতেও ক্যান্সার দেহের যে কোনও অঙ্গ – প্রত্যঙ্গ থেকে উৎপন্ন হতে পারে । হােমিওপ্যাথিতে কোনও রােগের কোনও ঔষধ নাই , বা হয় না । এতে ঔষধকেই রােগ বলে মেনে নেওয়া হয় । কোন ঔষধকে কোন্ রােগ বলা হয় , হােমিওপ্যাথিক সিদ্ধান্তে এই স্পষ্ট বলা হয়েছে যে , ‘ বিষস্য বিষমৌষধ । অর্থাৎ বিষের ঔষধই হলাে বিষ ।

আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি কিন্তু এ কথা স্বীকার করে না । কিন্তু আয়ুর্বেদ ও যােগবিদ্যা একথা স্বীকার করে যে , মানব শরীরে রােগের জন্ম শারীরিক কারণের সঙ্গে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানসিক কারণগুলির দ্বারাও হয়ে থাকে । হােমিওপ্যাথিও এই কথা । স্বীকার করে । হােমিওপ্যাথির দৃষ্টিতে অধিকাংশ রােগ মানসিক কারণেই হয়ে থাকে ।

চিকিৎসা :

হােমিওপ্যাথিক মতানুসারে ক্যান্সার উৎপত্তিকারী পদার্থ সেবন অথবা কোন প্রকার কোনও গভীর ক্ষত হলে যেমন শারীরিক কারণে নিরন্তর চিন্তা হয় তার ফলে কাজ – কর্ম , ব্যবসা – বাণিজ্য প্রভৃতির ক্ষতি হয় । সেই রকম মানসিক অধিক চিন্তাতেও ক্যান্সার উৎপত্তি হয় । কেউ কেউ আবার বংশানুক্রমিকভাবে এই রােগের শিকার হয়ে পড়ে ।

কোনও কোনও হােমিওপ্যাথিক চিকিৎসক আবার একথাও বলেন যে , ক্যাসার রােগ যার গভীর হয়েছে , তার ঔষধের দ্বারা রােগমুক্ত হওয়া সম্ভব নয় ;  যদি রােগের আরম্ভ সময়ে চিকিৎসা করে নেওয়া যায় , তাহলে রােগ আরােগ্য হবার সম্ভাবনা থাকে।

আবার এর বিপরীতভাবে অনেক হােমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বলেন যে , ক্যান্সার রােগ যদি কোনও পদ্ধতিতে আরােগ্য হয় , তাহলে সেই পদ্ধতি হলাে শুধুমাত্র হােমিওপ্যাথিক পদ্ধতি । একমাত্র হােমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতেই ক্যান্সার আরােগ্য হতে পারে । এর কারণ হলাে , হােমিওপ্যাথিক ক্যান্সারকেই নয় , উপরন্তু তার মূল কারণকে অনুসন্ধান করে তার চিকিৎসা করে । অতএব এটাই স্বাভাবিক যে , মূল নষ্ট হবার পর তার জন্য রােগও আপনা থেকেই নষ্ট হয়ে যাবে ।

ক্যান্সারের বিবরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে , এই রােগ দেহের যে কোনও অঙ্গে আক্রমণ করতে পারে । আরম্ভে এই রােগ একটা ব্রণ , টিউমার অথবা অন্য কোনও রূপেই হতে পারে ।

প্রারম্ভিক অবস্থায় এটি ছােটই হয় , এতে কোনও যন্ত্রণাও হয় না ; অতএব যদি কখনও দেহের কোনও স্থানে এই প্রকার কিছু দেখা যায় , এবং ঔষধপত্রদিয়েওউপশম হয় , তাহলে শীঘ্রই তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । নতুবা এইসব টিউমার ইত্যাদি পেকে যেতে পারে ; পেকে গেলে এর ভেতর থেকে রক্ত বেরােতে থাকে । পূজও বেরােতে পারে ; আবার পচে গিয়ে দুর্গন্ধ বেরােতে থাকে ।

যদি কোনও ভাবে একে ঠিক করা না যায় , তাহলে জানতে হবে এটি নিশ্চয় ক্যান্সার ; এই অবস্থায় এর বায়ােপসী তাড়াতাড়ি করিয়ে নিতে হবে ।

হােমিওপ্যাথিতে সাধারণতঃ

এর জন্য ঔষধের বিধান দেওয়া হয়েছে , তথাপি এই রােগ এবং রােগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয় ; দেখে নিতে হয় কোন্ ধরনের রােগ । সেজন্য যােগ্য চিকিৎসকের সাহায্য গ্রহণ করতে হবে ।

আর্স আয়ােডাইড 3x—

নাকের ক্যান্সার , কোনও ফোড়া বা অন্য কোনও তীক্ষ্ণ বস্তুর দ্বারা আঘাত লেগে রক্তস্রাব ; দ্বারা ছড়ানাে ক্যান্সারকে নিরুদ্ধ করার জন্য এই ঔষধ অত্যন্ত ফলদায়ক ;  নাক দিয়ে স্রাব হলে , ঠোটে সেই স্রাব স্পর্শ করে ; তাতে ঠোটেও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । সেজন্যও এই ঔষধ অত্যন্ত ফলদায়ক ; যাদের অত্যন্ত ঘাম দেয় , অত্যন্ত দুর্বল , ঠিকমত হজম হয় না , পাচন ক্রিয়ায় গােলােযােগ আছে ; অল্প অল্প পায়খানা হয় , এই অবস্থায় যদি ক্যান্সারের সম্ভাবনা দেখা ; দেয় , তাহলে এই ঔষধ প্রয়ােগ করলে অত্যন্ত বেশী ফল পাওয়া যায় ।

আর্সেনিক 30 অথবা 200 — যদি রােগাক্রান্ত স্থানে অত্যন্ত জ্বালা অনুভব হয় , তাহলে এই ঔষধ অত্যন্ত উপকারী ; পেটের ক্যান্সারে গরম সেক দিলে রােগী আরাম পায় । অজ্ঞানতা , জ্বালা করে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language