থাইরয়েড ক্যান্সার এর কারণ লক্ষন ও চিকিৎসা

থাইরয়েড ক্যান্সার এর কারণ লক্ষন ও চিকিৎসা

থাইরয়েড ক্যান্সার :

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে যাকে গলগণ্ড বা গণ্ডমালা বলা হয় , তাকেই এ্যালােপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্রে থাইরয়েড ক্যান্সার বলা হয় । সুশ্রুতের নিদানে বলা হয়েছে যে , বৈদ্যর উচিত হলাে গলগণ্ড রােগীর চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া । কারণ এই রােগ চিকিৎসার অসাধ্য । সুশ্রুত বলেছেন –

কৃচ্ছাছুসন্তং মৃদুসর্বগাত্রং সংবৎসরাতী তমরুচিকার্য ।ক্ষীণং চ বৈদ্যো গলগণ্ডযুক্তং ভিন্নস্বরং চাপি বিবর্জয়েচ্ছ ।

অর্থাৎ :

শাস কৃচ্ছ হয়েছে , সর্বত্র মৃদু হয়ে গেছে , এক বছরেরও অধিক সময় কেটে গেছে , অরুচি ধরেছে , রােগী ক্ষীণ হয়ে পড়েছে , যার স্বর ভগ্ন বা ভিন্ন হয়ে গেছে , এইরূপ যে গলগণ্ড রােগী , সেক্ষেত্রে বৈদ্যের উচিত সেই রােগীর চিকিৎসা না করা বা ছেড়ে দেওয়া ।

থাইরয়েড ক্যান্সার কারণ :

গলার মধ্যে দুটি গ্রন্থি আছে । এদের কাজ হলাে হরমােন উৎপন্ন করা । পুরুষ অপেক্ষা নারীদের মধ্যে অধিকাংশ এইরূপ গলার হরমােন উৎপত্তি দেখাযায় । যুবতী অবস্থায় অথবা গর্ভাবস্থায় বিশেষভাবে এর প্রভাব দেখা যায় । এর সঙ্গে পিটুইটারী । গ্রন্থি , আয়ােডিন প্রভৃতি শারীরিক প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে । পূর্ব – উত্তর প্রদেশ ও উত্তর – পশ্চিম বিহার এবং কিছু কিছু মধ্যপ্রদেশের কিছু স্থানে এই গলগণ্ড রােগ খুব বেশী দেখা যায় ।

লক্ষণ :
প্রথমত :

ক্যান্সার রােগের কোনও অবস্থা বা স্থান বিভেদ নেই । যে কোনও স্থানের ক্যান্সার যে কোনও অবস্থাতেই হতে পারে । গলার ক্যান্সার পুরুষ অপেক্ষা মেয়েদের মধ্যে বেশী দেখা যায় । এর আগে স্বরযন্ত্রের ক্যান্সারেরই উল্লেখ করা হয়েছে । এক্ষেত্রে বলা যায় যে , গলগণ্ডের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বা পরিণাম স্বরূপ ক্যান্সার রােগ উৎপন্ন অন্যান্য ক্যান্সারের ন্যায় এর প্রভাবও সাধারণতঃ নিকটস্থ অঙ্গগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে । লসিকা বাহিনীর দ্বারা লসিকা গ্রন্থিতেও ছড়িয়ে পড়ে । যদি কোনও প্রকারে এর বীজাণু রক্তে প্রবেশ করে , তাহলে রক্তের সাহায্যে দেহের যে কোনও স্থানে এ প্রসার হয় । তখন রােগীর যা অবস্থা হয় , সেটা চিন্তনীয় ব্যাপার । অতএব উচিত হচ্ছে , এই রােগের বীজাণু সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ার পূর্বেই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা বা রােগ পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা ।

দ্বিতীয়ত :

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ৪০ ( চল্লিশ ) বছরের বেশী বয়সের মেয়েদের মধ্যে পাওয়া । যায় । তবুও ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে যে , কোনও সময় যুবতীদের মধ্যেও এই রােগ হতে দেখা যায় । যখন বুক ধড়ফড় করে , ঘাম দিতে থাকে , মাসিক স্রাবে অনিয়মিততা হয় , খেতে কষ্ট হয় , সেই সঙ্গে স্বাস – প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার পরিবর্তন হয় , শারীরিক প্রক্রিয়াতেও কিছু বৈকল্য দেখা যায় , তাহলে তখনই বুঝতে হবে , দেহে ক্যান্সারের বীজাণু আক্রমণ করেছে । এর অতিরিক্ত লক্ষণ তখনই প্রকাশ পায় , যখন রােগ ক্রমশঃ বেড়ে যেতে থাকে ।

চিকিৎসা :

পরীক্ষা দ্বারা জানা যায় যে — গলার গ্রন্থি বড় হয়েছে । এতে একটি গ্রন্থিও বড় হতে পারে আবার দু’পাশের দু’টি গ্রন্থিও বড় হতে পারে । জল পান করার সময় এই গ্রন্থি উপর – নিচু হয় । এটি হলাে দ্বিতীয় লক্ষণ । হাত দিয়ে টিপলে গ্রন্থি বেশ শক্ত অনুভব করা যায় ।

এর পরীক্ষা করা হয় থাইরয়েড লিম্ফোগ্রাফী ( Thyroid Limphography ) এবং থাইরয়েড স্ক্যানিং ( Thyroid Scaning ) – এর সাহায্যে । এটি একপ্রকার এক্সে – রে ( X – ray ) । বায়ােপসীও এই রােগ পরীক্ষায় বিশেষ সহায়ক ।

ক্যান্সার রােগের মুখ্য বা প্রধান চিকিৎসা অস্ত্রোপচার ।

সৌভাগ্যবশতঃ

যদি প্রাথমিক অবস্থাতে এর লক্ষণ দেখে পরীক্ষা করানাে হয় , তাহলে সত্বর অপারেশন করিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত স্থান কেটে ফেলা যায় । এই অবস্থায় রােগীকে বেশী কষ্ট বা হয়রানি ভােগ করতে হয় না । অন্যথায় রােগ বেড়ে গেলে সব কিছুই অসহ্য হয়ে পড়ে । রােগী অস্ত্রোপচার করাতে ভয় পায় , কষ্টও বেশী বেড়ে যায় এবং আক্রান্ত স্থানের কাছাকাছি অঙ্গে রােগের প্রসার হয় । তখন একমাত্র বিকিরণ ( Radium ) চিকিৎসা দ্বারা বীজাণু নষ্ট করা যায় । কিন্তু যদি ফুসফুস ও অস্থিতে এই রােগ প্রসারিত হয় , তাহলে সেই অবস্থায় ঔষধ প্রয়ােগ করাই উপযুক্ত বলে জানতে হবে । কারণ উপরােক্ত বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয় না । আর তাতে ভয়মুক্তও হওয়া যায় না , অর্থাৎ অপারেশনের ফল খারাপ হতে পারে ।

সমস্ত রােগ অবরােধ এবং রােগাক্রমণের হাত থেকে অব্যাহতি লাভ করার জন্য অত্যাবশ্যক হলাে সাবধানতা ; কিন্তু বেশী বয়সের মেয়েদের পক্ষে সেই সাবধানতা অবলম্বন করা সম্ভব নয় ; সেটা কিশাের – কিশােরীদের পক্ষেই সম্ভব ।

সাধারণতঃ

কিশাের অবস্থা পার হলেই নারীর মাসিক রজঃস্রাব আরম্ভ হয়ে যায় ; আবার সেই রজঃস্রাবের অনিয়মতা হেতুও অনেক স্থলে মেয়েদের গলা ফুলে যায় ; সেজন্য এই দু’টির সমীকরণ করা নারীর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে , সেটা সম্ভবও হয় না ।

অতএব যদি বিষয়টি ভালভাবে জানা যায় , অর্থাৎ কিজন্য গলা ফুলেছে বা বেদনা হচ্ছে বুঝতে পারা যায় ; তাহলে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিস্থিতি সামলানাে সম্ভব হয় ; সেজন্য রােগী অপেক্ষা তার অভিভাবকদের উত্তর — দায়িত্ব হলাে নিজের কিশােরী কন্যাদের সম্পর্কে সাবধান থাকা ।

মেয়েদের গর্ভাবস্থাতেও কিছু কিছু প্রকার পরিবর্তন দেখা যায় । সেই সময়েও আবার এই রােগ আক্রমণ করতে পারে ; সেজন্য নিয়মিতভাবে যে যুবতী । চিকিৎসকের কাছে যান , তিনি এই ভয় থেকে বাঁচতে পারেন ; এজন্য চিকিৎসকের সঙ্গে যােগাযােগ রাখাই উচিত ; কিছু অসুবিধা যদি দেখা দেয় , তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত ; এতে ভবিষ্যতে বিপদের ভয় থাকে না ।

এইভাবে সন্তান জন্ম হবার পর অথবা সন্তান যখন স্তনপান করে , তখনও এই রােগের উৎপত্তি হতে পারে ; এই সময় যদি প্রসূতি সাবধানতা গ্রহণ করে;  অর্থাৎ যে কোনও অসুবিধায় ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে , তাহলে প্রসূতির সঙ্গে তার সন্তানও এই রােগের হাত থেকে অব্যাহতি পায় ।

যদি লিম্ফোগ্রাফী না করানাে হয় , তাহলে স্ক্যানিং করিয়ে নেওয়া উচিত ; সন্দেহ হলে বিলম্ব না করে লিম্ফোগ্রাফী করিয়ে সন্দেহ দূর করানাে উচিত ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language