মৃগীরােগ বা এপিলেপসি ( নার্ভাস সিস্টেমের রােগ )

 মৃগীরােগ বা এপিলেপসি ( নার্ভাস সিস্টেমের রােগ )

 মৃগীরােগ ( Epilepsy ):

মৃগীরােগ যাদের আছে তাদের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক ইলেকট্রিক অ্যাক্টিভিটি রয়েছে। যাদের এপিলেপ্সি বা মৃগীরোগ আছে মাথায় আঘাত বা যাদের মানসিক সমস্যা আছে তাদের ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম হওয়ার ঝুঁকি বেশি। মৃগীরােগ বা এপিলেপসি যেকোনো বয়সে হতে পারে। সাধারণত হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, সারাশরীরে খিঁচুনি হওয়া, চোখ মুখ উল্টিয়ে ফেলা  অনেক সময়, অনেকের শরীরে খিঁচুনি হতে শুরু করে। আমাদের অনেকেরই ধারণা, খিঁচুনি মানেই তা মৃগীরোগের কারণে। কিন্তু জানেন কি, মৃগীরোগ সব খিঁচুনির জন্য দায়ি না-ও হতে পারে।

 

চিকিৎসা :

১ ) কারণ কিছু পাওয়া গেলে তার চিকিৎসা , যেমন Brain Tumour থাকলে

(২) যে সব পরিস্থিতিতে ফিট হয় , সেগুলি এড়িয়ে চলা ফিটের সময় জিভটা টেনে রাখতে হবে , মুখে Mouthgas নাগাতে হবে, মুখের লালা সাফ করতে হবে ।

(৩) মুখে খেতে দিতে হবে নিচের যেকোন একটি ঔষধ—

(ক) Grand Mal অর্থাৎ সম্পূর্ণরূপ চৈতন্যরূপে চৈতনালোপ হয় এমন ক্ষেত্রে— Tab Eptopon – 100mg (ট্যাব এপটোপন -১০০ মিগ্রা ) ১ টি করে দিনে ৩ বার খাবার পর দুধসহ খেতে হয় ।

  • অথবা Cap Dilantin – 0.1mg ( ক্যাপ ডাইল্যানটিন -০.১ গ্রাম ) ১ টি করে দিনে ৩ বার বাির পর দুধসহ হবে- Cap Dilantin – P ( ক্যাপ ডাইল্যানটিন – পি ) ১ টি করে দিনে বার খাবার পর ।
  • অথবা Tab Garoin ( ট্যাব গ্যারােইন ) ১ টি করে দিনে ৩ বার খাবার পর , তারপরেও আক্রমণ চলতে থাকলে দিতে হবে— Cap Dilantin ( কাপ ডাইল্যানটিন ) + Tab Mysoline ( ট্যাব মাইসােলিন ) ১+ ১/২ টি করে দিনে ৬ বার পরে সপ্তাহে ১/২  টি করে মাইসােলিন ট্যাব বাড়াতে হবে যতদিন মাত্রা ১ + ১ টি করে দিনে ৩ বার হচ্ছে ।

(খ) যখন আক্রমণ মারাত্মক হয় । অর্থাৎ সংঘালােপ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয় খিঁচুনি , চলতেই থাকে , মুখ থেকে লালা বার হয় তখন Inj Anxol – 10mg ( ইঞ্জেকশন অ্যানন ১০ মিগ্রা ) ২ মিলি পেশীতে দিতে হবে । প্রয়ােজনে ১ ঘন্টার ব্যবধানে দেওয়া যায় ।

  • অথবা Inj Valium – 10mg ( ইঞ্জেকশন ভ্যালিয়াম -১০ মিগ্রা ) ২ মিলি পেশীতে দিতে হয় প্রয়ােজনে ১ ঘন্টা পরে পুনরায় দেওয়া যায় ।

*আর মুখে খেতে দিতে হবে- Tab Zeptoi ( ট্যাব জেপটল ) ২০০ মিগ্রা ট্যাবলেট টি করে দিনে ৩ বার ১ সপ্তাহ ৪০০ মিগ্রা ট্যাবলেট ১ টি করে দিনে ৩ বার ।

  • *অথবা Tab Mazetol – 200mg ( ট্যাব ম্যাজেটল -২০০ মিগ্রা ) প্রথমে ১ টি করে দিনে ৩ বার , ক্রমশঃ বাড়তে বাড়তে ৪০০ মিগ্রা , দিনে ৩ বার অবধি দেওয়া যাবে ।
  • **অথবা Tab Encorate 200mg ( ট্যাব এনকোরেট -২০০ মিগ্রা ) ১ টি করে দিনে ২ বার ৩ দিন অন্তর ২০০ মিগ্রা করে বাড়বে ।
  • ***অথবা Tab Epilax – 200mg ( ট্যাব এপিলেক্স -২০০ মিগ্রা ) ১ টি করে নে ২ বার , ৩ দিন করে দিনে ২ বার ৩ দিন তান্তর ২০০ মিগ্রা করে বাড়াতে হবে ।

(গ) Petmal অথাৎ মৃদু অবস্থার ক্ষেত্রে – Tab Valparin – 200mg ( ট্যাব পারিন -২০০ মিগ্রা ) ১ টি করে দিনে ৩ বার । ক্রমশঃ বাড়িয়ে ২ টি করে দিনে ৩ বার তে হবে ।

  • অথবা Tab Valprol – 200mg ( ট্যাব ভ্যালপ্রল -১০০ মিগ্রা ) ১ টি করে দিনে ৩ বার ক্রমশঃ বাড়িয়ে ২ টি করে দিনে ৩ বার করতে হয় । মৃগীরােগের চিকিৎসা দীর্ঘদিন করতে হয় । তবে ফিট হওয়া বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলে ওষধের মাত্রা কমিয়ে দিতে হয় । ২-৩ বছর চালানাের পর তা বন্ধ করে দেওয়া চলবে ।

মৃগীরােগীকে হিষ্টিরিয়া ( Hysteria ) রােগী থেরে পৃথকীকরণ :

(১) হিষ্টিরিয়াতে পূর্ণ চেতনা লােপ হয় না ; মৃণীতে একেবারে চেতনা লোপ হয় ।

(২) হিষ্টিরিয়াতে অজ্ঞান হবার আগে রােগিনী চিৎকার করে ওঠে না , মৃগীতে হঠাৎ  সে চিৎকার করে ওঠে ।

(২) এছাড়া , প্রােটিনেন্স , হরলিকস , প্রােটিনউলস , নারিস প্রভৃতি ফুড প্রােডাক । অ্যাম্পিলিন -১০০ মিগ্রা ) ১ টি করে ভায়াল প্রত্যহ ১-২বার পেশীতে দিতে হবে ।। ঘরােয়া অ্যালােপ্যাথিক চিকিৎসা ৫০ দিতে হয় ।

(৩) হিষ্টিরিয়াতে অবিরাম আক্ষেপ থাকে না সেটা মৃগীরােগে থাকে ।

(৪) হিষ্টিরিয়াতে শ্বাস – প্রশ্বাস থাকে ; মৃগীতে থাকে না ।

(৫) হিষ্টিরিয়া কেবল মাত্র নারীর হয় , মৃগীরােগ পুরুষ ও মহিলার উভয়েরই হয় ।

সাবধনতা :

মৃগীরােগী চিকিৎসাধীন থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে কিন্তু কিছু কিছু সাবধনতা অবলম্বন জরুরী ; যেমন ১ ) সাতার কাটা বা পুকুরে নামা এবং ২ ) গাড়ি চালানাে , ৩ ) মেশিন চালানাে , ৪ ) পর্বতারােহন ।

2 thoughts on “ মৃগীরােগ বা এপিলেপসি ( নার্ভাস সিস্টেমের রােগ )”

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language