পিত্ত পাথর (Gall Stone) – কারণ, লক্ষন ও চিকিৎসা

পিত্ত পাথর (Gall Stone) - কারণ, লক্ষন ও চিকিৎসা

পিত্ত পাথর ( Gall Stone ):

পিত্ত পাথর কারণ : পিত্ত থলি ( Gall – Bladder ) বা পিত্তবাহী নালী ( Bile – Duct ) – এর মধ্যে আহারাদির দোষ বা যকৃতের কর্মক্ষমতার অভাবের জন্য পিত্তরস ( Bile ) জমে।

এগুলি জমে ক্রমশ পাথরের কণার আকারে পরিণত হয় — তাকেই পিত্ত পাথর বা Gall Stone বলে।

বালুকার রেণু ( Gravel ) থেকে শুরু করে প্রায় পায়রার ছােট ডিমের মতাে ছােট বড় নানা আকৃতির ; গােলাকার , সাদা , কালাে , কটা বা সবুজ বর্ণের এক বা একাধিক পাথর রােগীর পিত্তথলিতে জমে ; এবং তা পিত্তবাহী নালীতে আটকে গিয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে।রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধিএই রােগ সৃষ্টিতে সহায়তা ।

বর্তমানে প্রায় শতকরা ১০-১২ জন লােক এই রােগে আক্রান্ত ; তার মধ্যে পুরুষের চেয়ে মহিলার সংখ্যা বেশি । পেটে তম্ন বা অত্যধিক যন্ত্রণা এই রােগের প্রধান লক্ষণ ।

আবার আজীবন পিত্তকোষে পাথরী থাকা সত্ত্বেও অনেকে কোন প্রকার অস্বস্তি অনুভব করে না ; পাথরী যতদিন পিত্তকোষে থাকে ততদিন রােগীর কোন প্রকার অসুবিধা হয় না ; মাঝেমধ্যে ডানদিকের উপর পেটে ব্যথা হতে পারে।কিন্তু পাথরী ; যখন পিত্তবাহী নালীতে এসে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন ভয়ংকর বেদনা হয় । এই উৎকট ব্যথাযন্ত্রণার নাম পিত্তশূল ( BilliaryColic ) ।

রােগ লক্ষণ :

বেদনা শুরু হয় পিত্তবাহী নালীর মধ্যে পাথর প্রবেশ করার জন্য ; এই শূলবেদনা ডানদিকেরকুক্ষিদেশ থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে । বিশেষ করে ভান কাঁধ ও পিঠ পর্যন্ত এই ব্যথা বেশি ব্যাপ্ত হয়ে পড়ে ; এই সাথে আরও নানা লক্ষণ প্রকাশ পায় ।

পিত্তশূলের ব্যথা শুরু হলে তার সাথে বমি , গা – বমি , শীতল ঘর্ম , দুর্বল নাড়ী , হিমাঙ্গ ( Collapse ) , পাণ্ডুরােগ ( Jaundice ) , শাসপ্রশ্বাসের কষ্ট , মূৰ্ছাপ্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায় ।

বেদনা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েকদিন থেকে কমে আসে । তার কারণ পাথর পিত্তনালী ; অর্থাৎ Bile Duct পেরিয়ে ভিওভিনামে এসে পড়লেই যন্ত্রণা কমে যায়।তখন মল । ধৌত করলে পাথরী পাওয়া যাবে । তা থেকেই বােঝা যাবে পাথরী বেরিয়ে গেছে । যদি তা না বের হয় তাহলে ব্যথা চলতেই থাকবে ; সাধারণত অপারেশনই তখন । প্রয়ােজন হয় । বর্তমানে আরও কিছু চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই পাথরীর অপসারণ ঘটানাে হয় তবে তা ব্যয়বহুল ।

রােগ নির্ণয় :

১।রােগলক্ষণ দেখে ।

২।X – ray – O.C.G Seris করলে রােগ ধরা পড়ে ।

৩। Ultrasonography করলে রােগ ধরা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায় ।

চিকিৎসা :

১। সাধারণতঃ এই রােগের ঔষধ চিকিৎসা কিছুই নেই । প্রাথমিক আক্রমণে খুব ব্যথা যন্ত্রণা হলে তা হলে নিম্নলিখিত ইঞ্জেকশন বা ঔষধ দিতে  –

  • TabN PAM ( ট্যাবএন – প্যাম ) ১ টিকরেদিনে ৩ বার।
  • অথবা TabCyclopam ( ট্যাবসাইকোপ্লাম ) ১ টিকরে দিনে ৩ বার ।
  • অথবা TabColimex ( ট্যাবলমেক্স ) ১ টিকরে দিনে ৩ বার।
  • *অথবা Cap Spasmoproxyvon ( ক্যাপ স্প্যাসমােপ্রভিন ) ১ টি করে প্রয়ােজন অনুযায়ী ।
  • অথবা Cap Parvon Spas ( ক্যাপ পারভন স্প্যাস ) ১ টি করে প্রয়ােজন অনুযায়ী ।খুব মারাত্মক যন্ত্রণা হলে দিতে হবে— Inj . ( ইঞ্জেকশন সাইক্লোপ্যাম ) ২ মিলি করে দিনে ২ বার পেশিতে দিতে হবে ।
  • অথবা Inj . Fortwin ( ইঞ্জেক ফোর্ট উইন ) ১ মিলি করে করে দিনে ২-৩ বার পেশিতে দিতে হবে ।

২।Cholecystectomy ( কোলেসিস্ট্যাকমি ) অর্থাৎ শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে পিত্তথলী কেটে বাদ দেওয়াই শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা । বর্তমানে লিথােট্রিপসি করে পাথুরী অপসারণ করানাে হয় তবে তা প্রচণ্ড ব্যয় সাপেক্ষ ।

৩।পিত্তথলী যদি স্বচ্ছ ( Non Opaque ) পাথুরী পূর্ণ হয় তাহলে নিচের ঔষধ ১-২ বৎসর পর্যন্ত খেলে পাথরী গলে যায় । TabUDCA ( ট্যাব ইউ – ডিসি – এ ) ১ টি করে দিনে ৩-৪ বার পর্যন্ত খাবার পর ।

*৬ মাস অন্তর O.C.G করে অর্থাৎ Oral Cholecystogram করে কতটা সফলতা হচ্ছে তা দেখা দরকার । এই পদ্ধতিতে শতকরা ৭০ ভাগ পর্যন্ত সফলতা আসে ।

৪।এছাড়া ল্যাপারােস্কোপিক অপারেশন ( এন্ডােস্কোপিক পদ্ধতিতে ) করা যায় তাতে রােগীর কষ্ট খুব কম হয় এবং দ্রুত রােগারােগ্য হয় । তবে কিছু কিছু অসুবিধা বর্তমান ।

আনুষঙ্গিক চিকিৎসা :

১ । অতিভােজন , বিরুদ্ধভােজন , দুম্পাচ্যভােজন , অতিনিদ্রা ; রাত্রি জাগরণ , উগ্র ঔষধ বা পানীয় ত্যাগ করতে হবে ; এককথায় মােটামুটি সর্ববিষয়ে সংযমী হতে হবে ।

২। পরিমিত পুষ্টিকর ও লঘু খাদ্য সর্বদা খেতে হবে ; কাঁচা পেঁপের তরকারি খাওয়া ভাল ; তিক্তদ্রব্য যেমন কালমেঘ , পলতা , উচ্ছে , করলা প্রভৃতি খাওয়া ভাল ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language