মেয়েদের বিভিন্ন রােগ [ Female Diseases ]-এর ঘরোয়া সমাধান

মেয়েদের বিভিন্ন রােগ [ Female Diseases ]-এর ঘরোয়া সমাধান

মেয়েদের বিভিন্ন রােগ :

মেয়েদের বিভিন্ন রােগ বিভিন্ন কারণেই হতে পারে। বাল্য বিবাহের জন্যেও মেয়েদের মধ্যে বিভিন্ন রােগ বা সমস্যা দেখা দিয়েছে। নারীদের খাদ্য বেশি করে গ্রহণ করতে হবে রোগ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। তাহলে দেখেনিন মেয়েদের বিভিন্ন রােগ ও তার ঘরোয়া সমাধান –

কম বয়সী মেয়েদের সাদা স্রাব হলে :

মাসিকের সময় পেটে ব্যথা ও ঠিকমতাে স্রাব না হলে:

  • অশােক ছাল আধ চামচ , সহদেবী আধচামচ জলে সিদ্ধ করে একদিন অন্তর যাওয়ান ।
  • চার চামচ উচ্ছে পাতার রস গরম জল দিয়ে খাওয়ান ।
  • এক গ্রাম হরিতকী গুড়াে , গরম জলে ভিজিয়ে রাত্রে শােবার আগে খাওয়ান ।
  • আধ চামচ মেহেন্দি ও আধ চামচ ওলট কম্বােল ও পাঁচটা লবঙ্গ গরম জলে । দিয়ে খেলে কোমরের ব্যথাতে বিশেষ উপকার হয় ।

অতিরিক্ত ঋতু স্রাব হলে :

  • চারটে জবা ফুল ও একটা লাল পদ্ম বেটে বড়ি তৈরী করে খাওয়ান ।
  • এক চামচ ভৃঙ্গরাজ এক কাপ দুধ দিয়ে দু’বার খাওয়ান ।
  • এক গ্রাম ভূঁইকুমড়াে ও এক চামচ রক্ত চন্দন বাটা এক কাপ দুধ দিয়ে খাওয়ান ।
  • অশােক ছাল গুড়াে এক চামচ , যষ্ঠি মধু এক চামচ জল দিয়ে ফুটিয়ে খাওয়ান ।

যােনিতে চুলকানি হলে :

  • আধ চামচ করে অশ্বথ ও অশােক ছাল এবং নিশিন্দা জলে ফুটিয়ে তাতে যােনি ধােওয়ান ।
  • আধ চামচ কুল গুঁড়াে ও এক চামচ আখের গুড় দিনে দুই বার জল দিয়ে খাওয়ান ।
  • যােনিতে বৃহতী ফলের রস লাগান ।
  • নিমপাতা বেটে যােনিতে প্রলেপ দিলে এই রােগ সেরে যায় ।
  • জল ফুটিয়ে ঐ জলে অল্প ফিটকিরি মিশিয়ে যােনি ধােওয়ান ।
রােগাটে চেহারায় মাসিক ঠিক মতাে হয় না :

চার চামচ থানকুনি পাতার রস প্রতিদিন খাওয়ান । ও এক গ্লাস দুধ দিনে একবার করে খাওয়া উচিত ।

মৈথুনের সময় বুকে ব্যথা ও যােনিতে যন্ত্রণা হলে : 

চার চামচ ওলােট কম্বল ও চারটে বাতাসা এক বার করে খাওয়া । মিলনের সময় যৌনবােধ না হলে এক গ্রাম কাঁচা সুপারি ও এক গ্লাস দুধ ।

মিলনে বিরক্তিভাব :

আধচামচ করে অশােক , নিশিন্দা ও কুড় জলে দিয়ে খাওয়ান ।

মৈথুনের পরই মানসিক ও শারীরিক ভাবে ঝিমিয়ে গেলে :

একশত গ্রাম । শসা বাটার সাথে মিছরি ও কপূর দিয়ে শরবত করে খাওয়ান ।

প্রতিমাসে ঋতু বন্ধ হবার পরই প্রচণ্ড সেক্সি হয় ও মেজাজ খিটখিট থাকে :

আধ চামচ জটামাংসী ওঁড়াে ঘি দিয়ে খাওয়ান ।

বুকে দুধ কম থাকলে :
  • চারটি পালতে মাদার পাতার রস ও নারকেল বাটা এক চামচ মিশিয়ে দিনে একবার খাওয়ান ।
  • আধ চামচ করে মৌরী , আমলকী , নিশিন্দা জলে ফুটিয়ে দিনে একবার খাওয়ান ।
স্তন ঝুলে পড়লে ও প্রচণ্ড ব্যথা হলে  :

এক চামচ পরিমাণ হলুদ , ধুতরা পাতা , আমলকী , আম আঠা গরম করে স্তনে লাগানাে উচিত ।

স্তনের বোঁটা ফাটা ও চুলকানি :

এক চামচ করে কুলগুড়াে ও গাম্ভীর বার খাওয়া ।

ছােট স্তনকে বড় করবার জন্য :

সমপরিমাণ আমলকী , গাম্ভীর , লজ্জাবতী ও তিল তেল দিয়ে ফুটিয়ে ঐ তেল দিয়ে মালিশ করা ।

স্তন অতিরিক্ত বড় হলে কমাবার জন্য :

সমপরিমাণ কুল ও মুসুর ডাল বাটা শুনে আধ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখা ।

স্তনের গঠন ঠিক রাখতে :

আধ চামচ কুড় ও গম্ভীর এবং দুই চামচ শতমূলী দিনে একবার জল দিয়ে খাওয়ান ।

স্তনের ঠুনকো :

স্তনে প্রচণ্ড ব্যথা হয় ও ফুলে ওঠে । ধুতরা পাতা ও হলুদ একত্রে বেটে প্রলেপ দিলে সেরে যায় ।

সুডৌল স্তন তৈরি করতে  :

পর পর সাতদিন শােয়ার আগে বেদানার খােসা বেটে প্রলেপ দিলে শিথিল স্তন দৃঢ় ও আকর্ষণীয় হয় ।

কোমরে ব্যথা  :
  • ঋতুকালে প্রায়ই হয় । দশগ্রাম কমলালেবুর খােসা , দুই গ্রাম করে | হিং ও গােলমরিচ চূর্ণ করে তার সাথে পঞ্চাশ গ্রাম কালাে তিল ভাজা দিয়ে পাচন করে সাত দিন খেলে সেরে যাবে ।
  • তারপিন তেল ও তিল তেল মিশিয়ে কোমরে মালিশ করলেও ব্যথা চলে যায় ।

স্বাস্থ্যবান পুত্র সন্তান লাভের উপায় :

  • কাগজি লেবুর সমস্ত বীজ দুধে বেঁটে এক সাথে পান করলে পুত্র সন্তানের প্রবল সম্ভাবনা থাকে ।
  • ৫০ গ্রাম করে বাবলার আঁঠা , শিবাঙ্গী বীজ , ময়ূর শিখা , অশ্বথ গাছের দাড়ি , পুত্র জীবক , মাজুল নাগেশ্বর এবং ৩ গ্রাম কস্তুরী এক সাথে চূর্ণ করে ভালভাবে হেঁকে এর পাউডার মাসিক এর চতুর্থ দিন থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত সকাল ও সন্ধ্যা ৬ গ্রাম করে দুধের সাথে দুই তিন মাস খেতে পারলে পুত্র সন্তান আসবে ।
  • প্রতিদিন সকালে একটা করে আমলকীর মােরব্বা নিয়ম করে খেলে সন্তান সুন্দর ও গৌরবর্ণ হয় এবং মায়ের শরীরও ভাল থাকে ।
  • গর্ভধারণের প্রথম মাস থেকে অষ্টম মাস পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেলে একটি করে কমলা লেবু খেলে স্বাস্থ্যবান পুত্র জন্মাতে সাহায্য করে ।

গর্ভবতীদের চিকিৎসা :

গর্ভধারণ মেয়েদের সহজাত প্রবৃত্তি । আর এ বিষয়ে প্রথমে জ্ঞান না থাকার ফলে প্রচণ্ড অস্বস্তি ও যন্ত্রণাও ভােগ করতে হয় ।

গর্ভবতী হবার লক্ষণ :

গর্ভ হলে প্রথমে ঋতু বন্ধ হয়ে যায় , বমি হয় ( ওয়াক তােলে ) . মুখ দিয়ে পাটি ওঠে , স্তন বড় হয় , স্তনে দুধ আসে ক্রমশ পেটের ভিতর সন্তানের নড়াচড়া টের পাওয়া যায় ।

বমি :
  • কমই হােক আর বেশিই হােক গর্ভধারণ হলেই প্রায়ই বমি করে থাকে । এই বমি ভাব গর্ভ ধারণের ১৫-২০ দিন পর থেকেই শুরু হয়ে যায় চলে প্রায় তিন মাস যাবৎ ।
  • এই সময় হিঞ্চে শাকের রস এক চামচ করে দিনে তিন বার খাওয়ালে বিশেষ উপকার হয় ।
  • এই সময় রুগী যে খাদ্য খেতে চায় তাই খেতে দেয়া ভাল ( কোনভাবেই আনারস যেন না খায় ) । তবে লাউ বা কুমড়াে ডাটা সেদ্ধ খেলে বমির ভাব কমে ।
অরুচি :
  • গর্ভাবস্থায় অনেকেরই প্রচণ্ড অরুচি হয় । খাবার দেখলেই বমি আসে এবং কোন খাবার খেতে ইচ্ছে করে না ।
  • সকাল বেলা অল্প আদা নুন দিয়ে খেলে অরুচি ভাব কেটে যায় ।
  • শসা পাতা , লাউপাতা , কুমড়াে পাতা যেগুলি শাক হিসেবে খাই যে কোন একটি কলাপাতায় জড়িয়ে গরম ভাত দিয়ে সেদ্ধ করে নুন তেল দিয়ে ভাতের প্রথমে খেলে । ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় ও অরুচিতে রুচি আসে ।
স্তনের বঁটায় ব্যথা :

গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্তনের বঁটায় প্রচণ্ড ব্যথা হয় । স্তনের আগাটি ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে , গাওয়া ঘি সামান্য গরম করে ঠাণ্ডা হলে মাখিয়ে রাখলে ব্যথা কমে যায় ।

তলপেট কনকন করলে :

পেটে নারিকেল তেল ও জল দিয়ে হাল্কা মালিশ রা খেলি রৰিত হব । ও ডাবের জল বা মিছরির শরবত খাওয়া ।

কোষ্ঠবদ্ধতা থাকলে ;
  • কোষ্ঠবদ্ধতা থেকে যে কোন মানুষের বিভিন্ন রােগের সূচনা হয় । বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েরা যদি এই রােগে ভােগে , তাদের নিজের শরীর তথা শিশু শরীরের নানা অসুবিধা আসবে । তাই যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • প্রতিদিন রাত্রে শােবার আগে এক চামচ হরিতকির গুড়াে গরম জলে গুলে খেলে । বিশেষ উপকার হবে ।

স্তন পরীক্ষা :

মেয়েদের স্তনের নানাবিধ রােগ ও সমস্যা আছে । তারমধ্যে স্তনের ব্যথা ও ইনফেকশন জাতীয় কয়েকটি সাধারণ রােগ ছাড়া যে সমস্যাটি বেশি ভাবিয়ে তােলে তা হচ্ছে স্তনের ক্যানসার । তাই নিম্নোক্ত বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য রাখা প্রয়ােজন ।

  • স্তনের গঠন স্বাভাবিক আছে কিনা ।
  • স্তনে কোন রম ব্যথা বা ক্ষত চিহ্ন আছে কিনা ।
  • স্তনের ভেতরে কোন রকম শক্ত মাংস পিণ্ড হচ্ছে কিনা । শক্ত মাংস পিণ্ড বা টিউমার থেকেই ক্যানসারের উৎপত্তি হতে পারে ।
  • স্তনের বোটা থেকে কোনও রকম রস ক্ষরণ হয় কিনা ।
  • সন্দেহজনক মনে হলে স্তনের আক্রান্ত স্থান থেকে টিসু নিয়ে বাইওন্সি টেস্ট করা ।
  • এছাড়া বংশে কারও ঐ জাতীয় রােগ ছিল কিনা জানতে হবে । তাহলে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকা উচিত ।
  • স্তন বৃত্ত ভেতর দিকে ঢুকে যাচ্ছে কিনা ।
  • একদিকের স্তন হঠাৎ আকারে ছােট বা বড় হয়ে যাচ্ছে কিনা ।
  • এই রােগটি সাধারণত ৪০-৪৫ বছর পরই বেশি দেখা দেয় এবং মেনােপজের পর এই রােগের সম্ভাবনা দ্রুত বৃদ্ধি পায় । প্রথমে বুকে একটা বেদনাহীন মাংস পিণ্ড হাতে ঠেকে এবং ধীরে ধীরে সেটি বাড়তে থাকে । এই সাথে বগলের নীচে কিংবা কাস্থির উপরের লিম্প গ্লান্ড জড়িত হয়ে পড়ে এবং তার বৃদ্ধি দেখা যায় ।
  • স্তন বোটা থেকে স্রাক ক্ষরণ হওয়া বিশেষত রক্তক্ষরণ হওয়া এই রােগের বিশেষ লক্ষণ ।

গর্ভপাত [ Abortion ] :

গর্ভপাত রােধে নীচের ভেষজগুলাে বিশেষ উপকার করে থাকে ।

  • তিন – চারটে পদ্মবীজ শরবত করে দু – তিন দিন অন্তর বেশ কিছু দিন খাওয়া ।
  • এক চামচ চিনি আধচামচ করে মেথিগুড়াে ও গাওয়া ঘি এক কাপ গরুর দুধ । নিয়ে খাওয়া ।
  • গরুর দুধ এককাপ , চিনি এক চামচ , যষ্টি মধুর গুড়াে আধচামচ ও গাম্ভীর , ওঁড়াে আধ চামচ দিনে একবার করে খাওয়া।
গর্ভপাতে সহায়তা করে :
  •  কাঁচা বা আধপাকা আনারসের রস দুই গ্লাস করে খেতে হবে ।
  • কাঁচা পেঁপের আঠা ৪ / ৫ চামচ + গােরক্ষচাকুলে ২ চামচ এক কাপ গরম দুধ । দিয়ে খাওয়ান ।
  • সজনের আঠা ও সজনের শিকড়ের রস গর্ভপাত ঘটায় ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language