বিষাক্ত পোকামাকড় কামড়ালে তার চিকিৎসা করুন ঘরোয়া উপায়ে

বিষাক্ত পোকামাকড় কামড়ালে তার চিকিৎসা করুন ঘরোয়া উপায়ে

বিষাক্ত পোকামাকড়:

বিষাক্ত পোকামাকড় যদি কামড়ায় তাহলে আপনাকে প্রথমে ঘরোয়া চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। কোন পোকা কামড়ালে কেমন করে ঘরোয়া চিকিৎসা করবেন…

মাছি কামড়ালে :

মাছিতে কামড়লে ঐ স্থানে পেঁয়াজের রস , লেবুর রস তুলসী পাতার রস ঘষলে জ্বালা – যন্ত্রণা সেরে যায় ।

মাকড়সার বিষ:
  • শরীরে মাকড়সার বিষ লাগলে দেরি না করে গাওয়া ঘি লাগালে বিষ ছড়াতে পারে না এবং চুলকানি ও জ্বালাবােধ কমে যায় ।
  • মাকড়সার বিষ শরীরে লাগলে আমচুর জলে পিষে চন্দনের মতাে করে আক্রান্ত জায়গায় লাগালে ঐ বিষ নষ্ট হয়ে যায় এবং জ্বালা – যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ।
বিষাক্ত পিপড়া কামড়ালে :

রসুনের কোয়া থেকে রস বের করে আক্রান্ত স্থানে লাগালে জ্বালা কমে যায় । তাছাড়া তুলসী পাতার রস বা গােলমরিচ গুঁড়াে ও ভিনিগার এক সাথে মিশিয়ে জ্বালা স্থানে লাগালে বিশেষ উপকার হবে ।

বিষাক্ত পােকা বা বিছে কামড়ালে  :

আলকুশী ১ চামচ গরম জলে ফুটিয়ে আঠার মতাে করে লাগালে উপকার হবে । অথবা পেঁয়াজ বাটা লাগালে উপকার হবে ।

মৌমাছি , বােলতা বা ভিমরুল কামড়ালে  :
  • ক্ষতস্থানে লবণ গুঁড়াে করে কেরােসিন তেলের সঙ্গে পেস্ট করে ঘষেঘষে লাগালে বা ছােট পিপুল জলে ঘষে চন্দনের মতাে করে লাগালে বিশেষ উপকার হয় ।
  • লবণ ও তুলসী পাতা বেটে লাগালেও জ্বালা ও ব্যথা সেরে যায় ।
হঁদুর বেড়াল বা নেউল কামড়ালে  :

ক্ষতস্থানে পুদিনা পাতার প্রলেপ দেওয়া । আফিং খেয়ে বিষক্রিয়া হলেও আধকাপ কলমী শাকের রস খাইয়ে দিলে বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায় ।

খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে :

আধা চামচ গােলমরিচ ও ৪ টি ছােট এলাচগুঁড়াে গরম জলে ফুটিয়ে সেই জল ঠাণ্ডা করে অল্প করে খান ।

যে কোন ধরনের বিষক্রিয়াতে :
  • কেউ যদি ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোন বিষ পান করে থাকে বা কোনভাবে পেটে চলে যায় , তাকে নষ্ট করার জন্য সঙ্গে সঙ্গে ৫০-১০০ গ্রাম গাওয়া ঘি এবং তার সাথে ১৫-২০টি গােলমরিচ গুঁড়াে মিশিয়ে খাওয়ালে বিষের প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পেট ভরে দুধ খাওয়ালে উপকার হয় ।
  • লবণ জল বা অন্ন কোন দ্রব্য খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বমি করাতে পারলে রােগীর পক্ষে সবচেয়ে ভাল হয় ।
সর্প দংশনের লক্ষণ সমূহ :
  •  যন্ত্রণা হয় ও আস্তে আস্তে পা ও শরীর অসাড় হতে থাকে এবং বিষ মাথার দিকে উঠিতে থাকে ।
  • সঙ্গে সঙ্গে অত্যন্ত যন্ত্রণা , বমিবমি হতে থাকে ।
  • দংশনের স্থান ফুলে ওঠে ও লাল হয়ে যায় ।
  • অবশ ভাব ও মুখ দিয়ে লাল ঝরতে থাকে ।
  • দংশনে স্থান দিয়ে চুইয়ে রক্ত পড়তে থাকে ।
  • চোখের তারা ছােট , শ্বাস – প্রশ্বাস ক্রমে ক্রমে বন্ধ হয়ে যায় ।
  • তীব্র বিষ শিরার মধ্যে ঢুকে গেলে রুগি মৃত্যুর পথে এগিয়ে যায় ।
  • কালসাপের কামড়ালে চোখে ঘুম নেমে আসে সেঘুম ভাঙ্গতে চায় না ।
সাপের কামড় থেকে বাঁচার উপায় :
  • যে স্থানে সাপের প্রাদুর্ভাব আছে সেই স্থান দিয়ে চলাফেরা করার সময় শব্দ করে চলবে । রাতে হাতে টর্চ নিয়ে চললে অনেকটাই সাপের কামড় থেকে বাঁচা যায় ।
  • সাপের চোখের পাতা স্বচ্ছ বলে এরা তীব্র আলাে সহ্য করতে পারে না । তাই সাপ আলাের পথ ছেড়ে অন্ধকারে চলে যায় ।
  • বসবাসের চারিদিকে কার্বলিক অ্যাসিড ছিটিয়ে দাও । সাপ কার্বলিক অ্যাসিডের তীব্র গন্ধ পছন্দ করে না , তাই দূরে চলে যায় ।
  • সাপ শুকনােবা আলগা নুড়ির ওপর দিয়ে চলতে অভ্যস্থ নয় । তাই বাড়ির চারিপাশে নুড়ি । দেওয়া নিরাপদ ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language