ব্লাড ক্যান্সার কি? কারণ, লক্ষন ও আয়ুর্বেদিক প্রতিকার

ব্লাড ক্যান্সার কি? কারণ, লক্ষন ও আয়ুর্বেদিক প্রতিকার
(রক্ত ক্যান্সার) ব্লাড ক্যান্সার

ব্লাড ক্যান্সার :

ব্লাড ক্যান্সার হলো চিকিৎসা শাস্ত্রে এই রােগটিকে বলা হয় লিউকিমিয়া । এই রােগ রক্ত কণিকার ওপরেই নির্ভরশীল । রক্ত কণিকা আবার নানা প্রকার হয়ে থাকে । যে প্রকার রক্ত কণিকায় এটি হয় তার নাম সেই রকমই দেওয়া হয় । লিউকিমিয়া দু’রকমের হয় । যেমন — একিউট ( Acute ) এবং ক্রনিক ( Cronic ) ।

  কারণ :

একিউট লিউকিমিয়া সাধারণতঃ বালক – বালিকার মধ্যেই অধিক পাওয়া যায় । কিন্তু যদি সময় মত চিকিৎসা না করা হয় , তাহলে ক্রনিক হয়ে দাড়ায় । সাধারণতঃ ২০ বছর বয়সের পরে ক্রনিক লিউকিমিয়া যে কোনও নর – নারীর হওয়া সম্ভব ।

এই  রােগ সৃষ্টির জন্য এক্স – রে এবং বিকিরণ প্রণালীর রশ্মি দেহের গভীরতম দেশে প্রবেশ করে অথবা অস্থিসমূহকে প্রভাবিত করে , তাহলে তার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে রক্ত ক্যান্সারের সৃষ্টি করে ।

যারা এক্স – রের কাজ করেন , তাদেরও রক্ত ক্যান্সার বার সম্ভাবনা খুব বেশী থাকে । ইংল্যাণ্ডে এই প্রকার ঘটনাও ঘটেছে । অতএব এই রােগের চিকিৎসাও সাবধানে করতে হয় ।

ব্লাড ক্যান্সার লক্ষণ :

এই রােগের লক্ষণ হিসাবে রক্তস্রাব , প্রত্যেকটি গাঁটে বেদনা , বুকে বেদনা হয় । অনেক সময় অস্থিতেও বেদনা দেখা দেয় । জ্বর হলে কমতে চায় না । অন্ত্রের স্বাভাবিক কাজে গােলমাল দেখা দেয় । প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থিতেও রােগ বিস্তার করে । বুকে লসিকা গ্রন্থি বৃদ্ধির জন্য শ্বাস গ্রহণে কষ্ট দেখা দেয় । খাদ্যনালীতে চাপ বােধ হতে থাকে ও খেতে কষ্ট হয় ।

লিউকিমিয়া রােগে রক্ত পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত রক্ত দিতে হয় ; সেই সঙ্গে রােগীর অবস্থা দেখে কোন্ ঔষধ প্রয়ােজন , তার ব্যবস্থা করা হয় ; ঔষধ প্রয়ােগ ও বিকিরণ পদ্ধতিতে এই রােগের চিকিৎসা কম হয় ।

চিকিৎসা :

রােগের হাত থেকে বাঁচার জন্য সাবধানতা অবলম্বন প্রয়ােজন ; গর্ভবতী মহিলাদের এক্স – রে করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় ; যাতে তার প্রতিক্রিয়া গর্ভিণীর ওপর বা তার গর্ভস্থ সন্তানের ওপর পড়ে ; মনে রাখতে হবে , যে রশ্মিতে ক্যান্সার আরােগ্য হয় , আবার সেই রশ্মি ক্যান্সারের জন্ম দেয় ।

অনেকে মনে করেন , ক্যান্সার বাইরে থেকে আক্রমণ করে না বা কোন বীজাণু থেকে হয় , আপনা থেকেই দেহাভ্যন্তরে সৃষ্টি হয় ; একথা কিন্তু সত্য নয় , তার কারণ , ধূমপান , মাদকদ্রব্য সেবন , কলকারখানার ধূলাবালি থেকেও এই রােগ সৃষ্টি হয় ।

বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ তিন ভাগের এক ভাগ ক্যান্সার রােগীকে উপযুক্ত ; চিকিৎসার দ্বারা নিরাময়ের কথা ঘােষণা করেছে । অবশিষ্ট দু’ভাগের আরও এক ভাগ ; ক্যান্সার রােগীর রােগ নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে ; কিন্তু অবশিষ্ট এক ভাগ ক্যান্সার রােগীর সম্বন্ধে আজও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা হয়নি ; বর্তমানে এই ক্যান্সার রােগের অবস্থা এই রকম ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language