উদরাময় রোগ কি? উদরাময় রোগ এর লক্ষন ও চিকিৎসা

 উদরাময় রোগ কি? উদরাময় রোগ এর লক্ষন ও চিকিৎসা

উদরাময় রোগ( Diarrhoea ) :

লক্ষণ উদরাময় রোগএর :

উদরাময় রোগ এ বার বার পাতলা পায়খানা হতে থাকে। উদরাময় রোগ হলে পায়খানার বেগ ধারণ করা যায় না।এই সব লক্ষণে বৃহৎ প্রাণেশ্বর রস প্রাতেঃ ও সন্ধ্যায় দিলে উপকার হয় ।রােগ ক্রনিক হয়ে গেলে অর্থাৎ প্রত্যহ পাতলা পায়খানা হয় কিন্তু তা ৪-৫বারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সেক্ষেত্রে চিকিৎসা হবে নিম্নরূপ ।পেটের মধ্যে ভুট – ভাট শব্দ হয় । নানা বর্ণের পায়খানা হয় , শব্দযুক্ত বায়ু নিঃসরণ হয় । পায়খানার সঙ্গে গােটা খাদ্য নির্গত হয় , চালধােয়া জলের মতাে পায়খানা হয় , পেট ব্যথা করে পিপাসা বৃদ্ধি পায় ।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা:

( ১ ) মহাশঙ্খ বাটিকা সকাল , দুপুর ও সন্ধ্যায় জলসহ খেতে দিলে।

( ২ ) পেটের গ্যাস হলে বক্ষার সকালে ও সন্ধ্যায় অলসহ দিলে উপকার হয় ।

( ৩ ) শ্বেত পপটি , বাড়বানল , সৈন্ধৰাদি চুর্ণও উদরাময়ে উপকার দর্শায় ।

( ৪ ) পুনর্ণবা চুর্ণ , হরিতকীর শাস , শুঠ , গুলঞ্চ , মরচি , পিপুল , বিট লবণ , জুয়ান , পুদিনা পাতা , আমলকী , দন্তিচুর্ণ সব সমপরিমাণে নিয়ে চূর্ণ করে কাপড়ে ছেকে নিয়ে এই চুর্ণ আধ চামচ পরিমাণ নিয়ে তার সঙ্গে পাতিলেবুর রস আধ চামচ মিশিয়ে খেলে , পেটে গ্যাস ও পাতলা দাপ্ত দূর হয় ।

( ৬ ) যদি জলের মতাে পাতলা পায়খানা হয় — ভাস্কর লবণ দুপুরে ও রাত্রে খাবার পর জলসহ খেলে উপকার হয় , বিকালে ও সন্ধ্যায় মহাশঙ্খ বাটিকা প্রদান করতে হবে ।

( ৭ ) পেট ফাপা থাকলে — জলসহ এলাচাদি চুর্ণ বৈকালে দিলে উপকার দর্শে ।

এলোপ্যাথিক চিকিৎসা :

১ ) গা – বমি ভাব বা বমি হতে থাকলে তার চিকিৎসা প্রথমে করাতে হয় । যেমন Tab Maxeron ( ট্যাব ম্যাক্সোরণ ) ১ টি করে দিনে ৩ বার খাবার আগে ।

  • অথবা Tab Nausidome ( ট্যাব নসিডােম ) ১ টি করে দিনে ৩ বার খাবার আগে । অথবা Inj Reglan ( ইঞ্জেকশণ রেগল্যান ) ২ মিলি ইন্ট্রামাস্কুলার পথে ১ বার ।

২ ) একটি অ্যান্টি ডায়েরিয়াল ঔষধ দিতে হবে , যেমন Tab AristogyI – F ( ট্যাব অ্যারিস্টোজিল — এ ফ ) ১ টি করে দিনে ৩ বার খাবার পর ৫ দিন ,

  1. *অথবা Tab Metrogy | F ( ট্যাব মেট্রোজিল – এফ ) ১ টি করে দিনে ৩ বার খাবার পর ৫ দিন ।
  2. **অথবা Tab BacigyI ( ট্যাব ব্যামিজিল ) ২ টি করে দিনে ৩ বার ।
  3. ***অথবা Cap Fumedil ( ক্যাপ ফুমেডিল ) ১-২টি করে ক্যাপসুল দিনে ৩ বার ।

৩ ) উপরের ঔষধে পায়খানা বন্ধ না হলে দিতে হবে যে কোন ১ টি ঔষধ– Tab Bactrin DS- ( ট্যাব ব্যাকটিন – ডি – এস ) ১ টি করে দিনে ২ বার ১২ ঘন্টার ব্যবধানে ।

  1. *অথবা Tab Hostacylin ( ট্যাব হােস্টাসাইক্লিন ) ১ টি করে দিনে ৪ বার ৭ দিন ।
  2. **অথবা Tab Norbactin ( ট্যাব নরব্যাকটিন ) ১ টি করে দিনে ১২ ঘন্টার ব্যবধানে ।
  3. ***অথবা Tab Norbid ( ট্যাব নরবিউ -৪০০ ) ১ টি করে দিনে ২ বার ১২ ঘন্টার ব্যবধানে ।

*এতে না কমতে চাইলে দিতে হবে Injection ঔষধ Inj . Genticyn – 80mg ( ইঞ্জেকশন জেন্টিসিন —৮০ মিগ্রা ) ২ মিলি করে দিনে ২-৩বার ।

  1. *অথবা Inj . Mikacs 500mg ( ইঞ্জেকশণ মিকাসিন —৫০০ মিগ্রা ) ২ মিলি করে দিনে ২-৩বার ইন্ট্রামাক্সুলার পথে ।
  2. **অথবা Inj . Aristocillin – 500mg ( ইঞ্জেকশন অ্যারিস্টোসিলিন —৫০0 মিগ্রা ) ৫০০ মিগ্রা দিনে ২ বার ১২ ঘন্টার ব্যবধানে ট্রামাক্সলার পথে ।

৪ ) তীব্র পেটের যন্ত্রণা থাকলে দিতে হবে Tab Colinex ( ট্যাব কলিমেক্স ) ১ টি করে প্রয়ােজন অনুযায়ী ।

  • অথবা Tab Cyclopam ( ট্যাব সাইক্লোপ্যাম ) ১ টি করে প্রয়ােজন অনুযায়ী ।

৫ ) ডিহাইড্রেশন হলে Inj . N.S.TV ( অর্থাৎ নর্মাল স্যালাইন দিতে হতে পারে । RInjer Lactate বা D.N.S. ও এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় ।

*রােগ ক্রনিক হয়ে গেলে অর্থাৎ প্রত্যহ পাতলা পায়খানা হয় কিন্তু তা ৪-৫বারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সেক্ষেত্রে চিকিৎসা হবে নিম্নরূপ ।

*Cap Neurolin – B ( ক্যাপ নিউট্রোলিন — বি ) ১ টি করে দিনে ৩ বার ১৫ দিন পর্যন্ত ।

  • **অথবা Cap Becelac ( ক্যাপ বেসেল্যাক ) ১ টি করে দিনে ১ বার ১৫ দিন পর্যন্ত ।
  • ***অথবা Cap Cobadex Forte ( ক্যাপ কোবাডেক্স ফোর্ট ) + Sporlac ( ম্পেরল্যাক পাউডার ) ১ টি করে প্রত্যহ ১ বার + ১ টি করে প্যাকেট প্রত্যহ ১ বার । এর সাথে দিতে হবে এনজাইম ঔষধ— Cap Aristozyme ( ক্যাপ অ্যারিস্টোজাইম ) ১ টি করে দিনে ২-৩বার খাবার পর ।
  • ****অথবা Cap Bestozyne ( ক্যাপ বেক্টোজাইম ) ১ টি করে দিনে ২-৩বার খাবার পর । অথবা CammOZyme Liquid ( কারমােজাইম লিকুইড ) ২ চামচ করে দিনে ২-৩বার খাবার পর ।

আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা :

১ ) প্রথম অবস্থায় গ্লুকোজের জল , ডাবের জল , সাগু , বার্লি , এরারুট , Electral বা Ricetral বা Electrobion বা Relyte প্রভৃতির জল খাওয়ানাে ভাল ।

২ ) পায়খানা একটু কমে গেলে দিতে হবে সুসিদ্ধ ভাত । কাচকলার ঝােল , দই 18 ” পাতলা দুধ , মাখন প্রভৃতি ।

৩ ) পাকা কলা , সিদ্ধ আপেল , চিড়া প্রভৃতি নিয়মিত খেতে দেওয়া ভাল ।

৪ ) কাচা শাকসবজি , টকফল , ভাজা ও মসলাদার খাবার চা – কফি , ঝঝাল কোল্ড ড্রিংকস , বরফ , তেল , ও ঘি প্রভৃতি বেশি খাওয়া নিষিদ্ধ , বাসি খাবার খাওয়া চলবে না ।

৫ ) খাবার সব সময় ধীরে ধীরে এবং ভালােভাবে চিবিয়ে খেতে হবে , খাবার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে । খাবার পর কিছু সময় বাদ দিয়ে জল খাওয়া উচিত ।

৬ ) যে কোন খাবার একটি নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হবে ।

৭ ) দিবানিদ্রা বা রাত্রিজাগরণ নিষিদ্ধ ।

৮ ) Sodium – bi – carbonate মিশ্রিত Mixture খাওয়া ভাল নয় । তাতে পরে রােগবৃদ্ধির ভয় থাকে বা পেটের অন্য রােগ সৃষ্টি হয় ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Change Language